কোলেস্টেরল বাড়ার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। বিশেষ করে, বয়স্কদের এই সমস্যা খুব বেশি দেখা যায়। সুষম খাবারের অভাব, নিয়মিত ব্যায়াম বা ঘাম ঝরানো হাঁটাচলা না করা। কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বয়স ষাট পেরিয়ে গেলে খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ম মানা জরুরি। যদি খুব বেশি ভাজাভুজি বা তেল-মসলা দেওয়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে, ধূমপান বা মদ্যপান বেশি করেন কেউ বা অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভোগেন, তা হলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে। তখন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ওষুধ খেতেই হবে। কিন্তু যদি প্রতিদিনকার জীবনে কিছু নিয়ম মেনে চলা যায়, তা হলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
যা করতে হবে
স্বাস্থ্যকর খাবার-দাবার খাওয়া
গোটা শস্য, প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি, ফল রাখতে হবে ডায়েটে। বিভিন্ন রকম ফল খেতে পারেন। কারণ, ফলে ক্যালরি কম এবং পুষ্টিগুণ বেশি। কয়েকটি ফল আবার ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি-র মতো খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ, যা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তরমুজ, পেয়ারা, কিউই, আপেল, কমলা, কলা, পেঁপে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ডিম খাওয়া যেতে পারে নিয়ম মেনে। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন একটা করে ডিম খেতে পারেন। বাকি চার দিন শুধুমাত্র ডিমের সাদা অংশ খাবেন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, কেক, কুকি, পেস্ট্রি, পনির, ঘি, মাখন, চিজ, জ্যাম বাদ দিতে পারলেই ভালো। ক্রিমযুক্ত দুধ এবং তা থেকে তৈরি ঘি-মাখন যতটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন।
ধূমপান বাদ দেওয়া
ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। কারণ, ধূমপান কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
শরীরচর্চা
স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন ব্যায়াম করা উচিত। বাড়িতে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, যোগব্যায়াম, হাঁটা ইত্যাদি কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক হবে।
পর্যাপ্ত ঘুম
একজন সুস্থ মানুষের রাতে কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম কোলেস্টেরলের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও কমায়। বয়স্কদের মধ্যে অনেকের দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস থাকে। তবে, খেয়ে উঠেই শুতে যাবেন না। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে খাওয়ার এক ঘণ্টা পরে ঘুমোতে যাবেন।