পাঠ্যবইয়ে আদিবাসী শব্দসংবলিত গ্রাফিতির ছবি পুনঃস্থান, আদিবাসী শিক্ষার্থী ও ‘সংক্ষুব্ধ ছাত্র জনতার’ ওপর হামলার বিচারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডসহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবন সংলগ্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে বিক্ষোভটি শেষ হয়। পরে সেখানে একটি ঘণ্টাব্যাপী একটি সমাবেশ হয়।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘পাহাড় ও সমতলে লড়াই হবে সমানতালে’, ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশে বৈষম্য কেন’, ‘মব সৃষ্টি করে হামলা চলবে না’, ‘আদিবাসীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ কর’, ‘সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত কর’, ‘এক জাতির দেশ নয়, বহুজাতির বাংলাদেশ চাই’ প্রভৃতি প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘আদিবাসীদের সঙ্গে উপজাতি, সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীসহ যেসব কথা উঠে আসে প্রতিটি শব্দই রাজনৈতিক। এই রাজনৈতিক শব্দগুলোর সঙ্গে অর্থনীতি যুক্ত থাকে। ফলে আদিবাসী হিসেবে কাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে কাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে সেটি কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।’
ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ তৈরি করেছি, সেটাকে নস্যাৎ করার জন্য কিছু মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে। আদিবাসী ভাইবোনরা যখন তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছিল, তখন স্টুডেন্ট ফর সভরেন্টির সদস্যরা লাঠিতে জাতীয় পতাকা বেঁধে তাদের ওপর আক্রমণ করেছিল। সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে তাদের আহত ও রক্তাক্ত কর হয়েছে। এভাবে জাতীয় পতাকারও অবমাননা করা হয়েছে।’