বেনজীরের সাভানা রিসোর্টে যা মিলল

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে গোপালগঞ্জে সাভানা ইকো রিসোর্টে গেছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকে তারা সেখানে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

মঙ্গলবার চালানো এ অভিযানে রিসোর্টের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর সুনির্দিষ্ট কিছু কর ফাঁকির তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল-সিআইসি।

সিআইসির উপ-পরিচালক শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, আমরা দেখেছি যে কি পরিমাণ তথ্য আয়কর নথিতে দেখানো হয়েছে , আর কি পরিমাণ তথ্য দেখানো হয়নি সেই তথ্যটুকুই এখানে ভেরিফাই করা হয়েছে। যেসব ডকুমেন্ট আমাদের হাতে এসেছে তার ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কর ফাঁকির তথ্য রয়েছে। একদম সুনির্দিষ্ট হওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। 

এছাড়া এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং, পিডব্লিউডি, কৃষি, মৎস্য ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রতিনিধিরা এসেছেন। সুনির্দিষ্ট করে ভ্যালুয়েশন তথ্য পাওয়ার পর আমরা বলতে পারব, যে কর ফাঁকির পরিমাণ আসলে কত? তবে কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য আমাদের হাতে এসেছে।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদের আয়কর নথি যাচাই করা হয়েছে। যাচাই শেষে আমরা দেখেছি, কী পরিমাণ তথ্য সেখানে দেখানো হয়েছে। কী পরিমাণ তথ্য দেখানো হয়নি।

ফজলে এলাহী বলেন, যত ধরনের সম্পদ আছে, ডিসক্লোজ, আনডিসক্লোজ সবগুলোই আমাদের যাচাই করতে হবে। এখনই সব দেওয়া যাচ্ছে না। পরবর্তীতে দেওয়া হবে। আয়কর আইনের যে বিধান আছে, কর ফাঁকির যদি আমরা তথ্য পেয়ে থাকি, আমরা একটা রিপোর্ট করব।

রিপোর্টটি সংশ্লিষ্ট কর অফিসকে জানাব। কর অফিস সেটার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ তথ্যকে আমরা যখন স্টাবলিস্ট করে ফেলতে পারব, তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী মামলার দিকে যেতে পারব। তবে এখন আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কর ফাঁকিটা স্টাবলিশ করা।

বেনজীর আহমেদ ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং ২০২০ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক থাকাকালীন গোপালগঞ্জের বৈরাগীটোল গ্রামে ৬২১ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন এই রিসোর্ট ও পার্ক।

অভিযোগ রয়েছে, রিসোর্ট তৈরির প্রায় সব জমিই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয় দেখিয়ে এবং নানা কৌশলে তিনি কিনেছেন। রিসোর্ট এবং অন্যান্য স্থাপনা মিলে ওই এলাকায় ১ হাজার ৪০০ বিঘা জমি বেনজীরের দখলে।

এসব অভিযোগের তদন্তে গত বছরের ৫ জুন, দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল সাভানা রিসোর্ট পরিদর্শন করে। এর আগে, ৩ জুন পার্কটি বন্ধ করে দেয় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।