আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা আইনে স্পিচ অফেন্স (মুক্তমত প্রকাশে মামলা) সম্পর্কিত মামলা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া আগামী ৭ দিনের মধ্যে এগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করছি ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব গায়েবি মামলা প্রত্যাহারের কাজ সম্পন্ন করতে পারব।’ অন্যদিকে ভারত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না দিলে তা প্রত্যর্পণ চুক্তির লঙ্ঘন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. আসিফ নজরুল।
‘স্পিচ অফেন্স’ মামলা শিগগির প্রত্যাহার : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাইবার নিরাপত্তা আইনে স্পিচ অফেন্স সম্পর্কিত মামলা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে করা ৩২২টি স্পিচ অফেন্স সম্পর্কিত মামলার বিচার চলছে। এগুলো প্রত্যাহার করার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা রাখার অবকাশ আছে। এসব মামলার মধ্যে সরকারি কৌঁসুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১১৩টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আশা করছি, দুই সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত যতগুলো মামলা আছে সব প্রত্যাহার করা হবে।’
শেখ হাসিনাকে ভারত ফেরত না দিলে প্রত্যর্পণ চুক্তি লঙ্ঘন হবে : ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা সম্পর্কে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা প্রত্যর্পণের (শেখ হাসিনাকে) জন্য ভারতকে চিঠি লিখেছি। এরপর ভারত যদি শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করে, তবে এটা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে প্রত্যর্পণ চুক্তি, সেটার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হবে। সে ব্যাপারে আমরা বিশ্বসমাজে পদক্ষেপ নেব, সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঠিক করা হবে।’ এ সময় আসিফ নজরুল বলেন, ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের যা যা করণীয় আছে, আমরা করে যাচ্ছি। আরও কিছু করণীয় থাকলে ক্ষেত্রবিশেষে চিন্তা করে আমরা করব।’
আড়াই হাজারের বেশি গায়েবি মামলা : ব্রিফিংয়ে আইন ও বিচার উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে বহু গায়েবি মামলা হয়েছে। অন্তর্র্বর্তী সরকার পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসব মামলা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। তবে এই উদ্যোগ (গায়েবি মামলা প্রত্যাহার) নিতে দেরি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২৫ জেলায় আড়াই হাজারের বেশি মামলাকে গায়েবি হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছি। এর বাইরেও অনেক থাকতে পারে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি, ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব গায়েবি মামলা প্রত্যাহারের কাজ সম্পন্ন করতে পারব।’ ‘গায়েবি’ মামলা শনাক্তে কয়েকটি মানদন্ড নির্ধারণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘মামলাগুলো পুলিশ দায়ের করেছে কি না, বিস্ফোরক আইনে করা কি না, অস্ত্র আইনে করা কি না, কিংবা পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে কি না। গায়েবি মামলা প্রত্যাহারে এসব প্রবণতা আমরা নজরে রেখেছি। এসব মামলায় অনেক অজ্ঞাত আসামি থাকে। আমরা দেখেছি, মামলাগুলো হতো বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর বড় বড় আন্দোলনের আগে-পরে। তিনটি ‘ভুয়া’ নির্বাচনের আগে-পরেও হয়েছে। এগুলো প্রত্যাহার হবে আশা করছি।” তিনি আরও জানান, বিয়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া বিয়ের কাবিননামায় ‘কুমারী’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আসিফ নজরুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা কিছু শব্দ নিয়ে অনেক আপত্তি শুনেছি, বিয়ের কাবিননামায় এখন থেকে শুধু অবিবাহিত শব্দ থাকবে। এছাড়া বিয়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।’