আদালতের আদেশে আ. লীগ নেতা হুন্ডি সুমন খানের সম্পদ জব্দ

আদালতের নির্দেশে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ওরফে হুন্ডি সুমন খানের সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি দল সুমন খানের মালিকানাধীন হোটেলসহ কয়েকটি ভবনে সরকারি ব্যানার লাগিয়েছে।

জানা গেছে, সুমন খানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে তার এবং তার পরিবারের নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান পায় সিআইডি।

সম্প্রতি সুমন খান, তার স্ত্রী ও তার দোকানের এক কর্মচারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪২৮ কোটি টাকারও বেশি লেনদেনের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, সুমন খানের ব্যাংক হিসাবে ২৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬০ টাকা মিলেছে। তার স্ত্রীর হিসাবে ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা রয়েছে। এছাড়া সুমনের দোকান কর্মচারী তৌকির আহমেদ মাসুমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। তাদের বৈধ আয়ের কোনো উৎস নেই।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জি আর সারোয়ার বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়া হয়েছে। এগুলো সরকারি মালিকানাধীন হিসেবে পরিচালিত হবে।’

এর আগে গত ১১ নভেম্বর পুলিশের একটি টিম ঢাকাগামী একটি বাস থেকে সুমন খানকে আটক করে। পরে হত্যা, অর্থ আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সুমন খান বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন। 

তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।