স্ক্যাবিস রোগের দেশব্যাপী সংক্রমণ

স্ক্যাবিস ক্ষুদ্র অণুজীব দিয়ে আক্রান্ত অত্যন্ত ছোঁয়াছে চর্মরোগ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর চামড়ায় প্রচ- চুলকানি হয়, পরবর্তী সময় লাল লাল ফুসকুড়ি ও পানি ফুসকুড়ি দেখা যায়। সাধারণত হাতের আঙুলের ফাঁকে, পুরুষাঙ্গে, অ-কোষে, তলপেটে ও থাইয়ের ওপরের অংশ এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। চুলকানি এত বেশি হয় যে, অনেক সময় চামড়ায় ক্ষত না করা পর্যন্ত চুলকানি শেষ হয় না। এই রোগের বৈশিষ্ট্য হলো রাত্রে বেশি চুলকায় এবং দ্রুতই পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়ে যায়।

স্ক্যাবিস রোগের দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাব

স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অত্যন্ত ছোঁয়াছে হওয়ার ফলে এই রোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে রাখতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। স্ক্যাবিস সাধারণত ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায়, অপুষ্টিজনিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি দেখা যায়।

প্রতিকার : সর্বদা হাইজিন (পরিষ্কার পরিছন্নতা) বজায় রাখতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যদের আলাদা রাখা।দ্রুত রোগীকে চর্ম বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হতে হবে এবং সঠিক নিয়মে চিকিৎসা নিতে হবে। পরিবারের সবাইকে একই সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

স্ক্যাবিস চিকিৎসা : আক্তান্ত রোগীকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।পারমেথ্রিন ক্রিম রাতে ঘুমানোর আগে গলা থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত এমনভাবে মাখতে হবে, যাতে একটি পশমের গোড়াও বাকি না থাকে। ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওষুধ গায়ে থাকতে হবে। এ সময় পানি ধরা বা হাত, পা, শরীর ধোয়া যাবে না। সকালে কুসুম গরম পানিতে গোসল করে পরিধেয় কাপড়চোপড়, বিছানার চাদর বালিশের কভার ধুয়ে ইস্ত্রি করতে হবে। প্রয়োজনে ১ সপ্তাহ পর একই নিয়মে আবার ক্রিম লাগাতে হবে। সংক্রমণ হলে অবশ্যই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে। চুলকানির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন বড়ি খেতে হবে। যদি রোগী ক্রাস্টেড স্ক্যাবিস রোগে আক্রান্ত হয়, সে ক্ষেত্রে পারমেথ্রিন ক্রিম পরপর ৭ দিন রাত্রে সমস্ত শরীরে লাগাতে হবে এবং অবশ্যই আইভারমেকটিন বড়ি ১ম, ২য়, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১৫তম, ১৬তম, ২২তম এবং ২৯তম দিনে ১টি করে সেবন করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস : সঠিকভাবে ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্রিম লাগাতে হবে। অন্যদের থেকে যেন পুনরায় আক্রান্ত না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। রোগীর যদি এটোপিক অ্যালার্জি থাকে তাহলে একই সঙ্গে সেই রোগের চিকিৎসা নিতে হবে।