ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল আটকাল আদালতে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইন বাতিলে জারি করা নির্বাহী আদেশ কার্যকরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির এক বিচারপতি। গতকাল বৃহস্পতিবার সিয়াটল আদালতে ট্রাম্পের এ নির্বাহী আদেশকে স্পষ্টতই অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি জন সি কফেনউর। ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেল নিক ব্রাউনসহ ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন আরও তিন রাজ্যের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী ১৪ দিনের জন্য তা বাস্তবায়ন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিচারক।

চার দশকের বেশি সময় বিচারপতির দায়িত্ব পালনকালে কখনোই এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখেননি বলে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি কফেনউর বলেন, ‘এই নির্বাহী আদেশ জারির পর আইনজীবীদের তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে না দেখায় আমি হতাশ।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য উৎপাদন না করলে বড় ধরনের শুল্ক পরিশোধ করতে হবে বলে বিশ্বের ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। সোমবার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম আন্তর্জাতিক ভাষণ। তিনি বলেন, আমেরিকায় পণ্য তৈরি করলে আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে কম কর হার দিচ্ছি। কিন্তু আপনারা যদি পণ্য আমেরিকায় তৈরি না করেন, তাহলে আপনাদের শুল্ক দিতেই হবে। তিনি জানান, কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের মতো প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প বেশ কিছু নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের মতো সিদ্ধান্ত।

ট্রাম্প-মোদি বৈঠক ফেব্রুয়ারিতে : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে ফেব্রুয়ারিতে। ইমানুয়েল মাখোঁর আমন্ত্রণে কৃত্রিম প্রযুক্তিবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্স সফর করবেন মোদি। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় আছেন ট্রাম্পও। দুই নেতার সম্ভাব্য এই বৈঠকের প্রস্তুতি সম্বন্ধে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, সেখানেই ট্রাম্প-মোদির বৈঠক হতে পারে। আর তেমনটা না হলে মোদিই ওয়াশিংটন ডিসিতে যাবেন ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে।

একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। অবৈধ অভিবাসী ও শুল্ক নিয়ে দুদেশের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনার শঙ্কায় দুদেশই তড়িঘড়ি এ বৈঠকের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার অবৈধ অভিবাসী। ভারতীয় কর্র্তৃপক্ষও এসব অভিবাসীকে ফেরত নিতে রাজি থাকার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন দুই নেতার এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। অতীতে মোদিকে ভালো বন্ধু হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন ট্রাম্প। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে অনেক বিশ্বনেতা আমন্ত্রণ পেলেও, সে তালিকায় ছিলেন না মোদি। এ ছাড়া চীনের প্রভাব রুখতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন চার দেশের জোট কোয়াডের শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ভারত। ফলে চলতি বছরের শেষদিকে এমনিতেই ভারত সফর করবেন ট্রাম্প।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত আছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেকোনো সময় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আগেও বলেছিলাম, আজও বলছি, ২০২২ সালে যদি আমি প্রেসিডেন্ট থাকতাম, তাহলে কখনোই ইউক্রেন সংকটের সৃষ্টি হতো না। পুতিনও ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিতেন না। পুতিনের সঙ্গে সব সমইে আমার একটি দৃঢ় সমঝোতা ছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনে সংঘাত থামানোর জন্য নিজেকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি বলেন, ‘আমরা জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলছি। নিকট ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গেও আমরা কথা বলব এবং তারপর দেখব কীভাবে সেখানে যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়। কবে নাগাদ পুতিনের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, মস্কো যখনই চাইবে, আমি সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত আছি।’ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রশংসাও করেছেন তিনি।