শহীদ মিনারে শিক্ষক সমাবেশ

প্রাথমিক শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান, এটা মানতে পারি না

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করছেন শিক্ষকরা। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় শহীদ মিনারে ১০ম গ্রেডের দাবিতে তারা সমাবেশ শুরু করেন। এর আগে সারা দেশ থেকে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন।

সমাবেশ উপস্থিত সব শিক্ষক শপথবাক্য পাঠ করেন। শপথবাক্য পাঠ করেন ফরিদপুর জেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাজাদুল হক বাবুল।

শপথে তিনি বলেন, আমি শপথ করছি যে, শিক্ষার্থীদের উন্নত জীবনমান উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকব। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন করব। প্রাথমিক শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের যেকোনও আন্দোলন সংগ্রামের সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমরা আমাদের অধিকারের প্রশ্নে কারও সাথে আপস করব না।  

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা থেকে সমাবেশে আসা সহকারী শিক্ষক জিয়াউল কবির বলেন, আমাদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে বেতন দেওয়া হয়, যা একজন শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারি না। দশম গ্রেড আমাদের প্রাণের দাবি। যে কারণে এক দফা এক দাবি নিয়ে আমরা শহীদ মিনারে একত্রিত হয়েছি।

বরগুনার ড. এম কে মজমদার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা যে কারিকুলামে পড়াই, আমাদের যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, সেই একই কারিকুলামে একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে নিয়োগ হয়। তারা ১০ম গ্রেডে বেতন পান, কিন্তু আমরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাই।

সমাবেশে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ঝাউখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিজয় কর্মকার বলেন, ২০২১ সাল থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দশম গ্রেডের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কেউ কোনও আশ্বাস দেয়নি। আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকার কমিটি করে দিয়েছে এ বিষয়ে নিয়ে কাজ করার জন্য। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি, তারা এটি রাখেনি।

২০২০ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের বেতন স্কেল গ্রেড-১৪ ও গ্রেড-১৫ ‘গ্রেড-১৩’ নির্ধারণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তখনও শিক্ষকদের দাবি ছিল, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের যথাক্রমে গ্রেড-১১ ও গ্রেড-১০ দেওয়ার।