সুযোগ পেয়েও মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে শঙ্কায় সুমাইয়া

নাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের হারিগাছা গ্রামের বাসিন্দা শাহাদত হোসেন। এক সময় একটি বেসরকারি স্কুলে অবৈতনিক শিক্ষকতা করতেন। প্রায় ২০ বছরের শিক্ষকতার সময়ে কোনো মাসে কিছু ভাতা পেয়েছেন আবার কোনো মাসে পাননি। রাজনৈতিক কারণে প্রায় পাঁচ বছর আগে সেটি বন্ধ হয়ে গেলে তাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর জীবিকার প্রয়োজনে শুরু করেন খাবার হোটেল ও চায়ের দোকানে জ্বালানি কাঠ সরবরাহের কাজ। সেখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই কোনো মতে চলে স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ের সংসার। অর্থকষ্টেই ছেলে-মেয়েদের লেখার পড়ার খরচও দিতে পারেন না তিনি। কিন্তু তার মেয়ে সুমাইয়া হোসেন লেখাপড়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা সুমাইয়া এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়েছে। পাবনা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ এসেছে তার সামনে। কিন্তু অর্থের অভাবে ভর্তি হওয়া নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সুমাইয়া জানায়, তার বাবা শাহাদত হোসেন ২০০৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থানীয় নন এমপিও ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিনা বেতনে চাকরি করেছেন। রাজনৈতিক কোন্দলে ২০২০ সালে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর বয়স না থাকায় আর কোনো চাকরিতে ঢুকতে পারেননি। পরে বাড়িতে জ¦ালানি কাঠ কেটে শুকিয়ে বাজারের বিভিন্ন হোটেল ও চায়ের দোকানে বিক্রি করে সংসার চালান।

সুমাইয়া জানায়, স্থানীয় ছাতনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতার পাশাপাশি নিজে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়ে পড়া লেখার খরচ চালিয়েছে এতদিন। কিন্তু এখন মেডিকেলে ভর্তি ও বিপুল খরচ চালানোর কোনো উপায় তাদের সামনে নেই। অথচ লেখা পড়া শেষ করে একজন ভালো চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে সমাজের দরিদ্র অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে সে। 

সুমাইয়ার প্রাইভেট শিক্ষক এবং ছাতনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. এন্তাজ আলী বলেন, সুমাইয়া মেধাবী ও পড়ুয়া ছাত্রী ছিল। তাকে বই-পুস্তক, প্রাইভেটসহ স্কুল পর্যায় সব প্রকার সহযোগিতা করা হতো। এমনকি মেডিকেল কোচিং করানোর সময় আমরা সার্বিক সহযোগিতা করেছি। এখন কেউ তাদের পাশে না দাঁড়ালে সুমাইয়ার চিকিৎসক হওয়া হবে না।