পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মেয়ে ফারজানা আক্তার তামান্না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্বপ্ন দেখেছিলেন ডাক্তার হবেন। সেই স্বপ্নপূরণের দোরগোড়ায় এসেছেন তিনি। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তামান্না। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তামান্নার।
তামান্নার বাড়ি উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া গ্রামে। মো. আলাউদ্দিন এবং সেলিনা বেগমের দুই মেয়ের মধ্যে তামান্না ছোট। বড় বোন ইশরাত জাহান লিয়া এবার বিএ পরীক্ষা দিয়েছেন। তামান্নার পিতা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ফেরত দিতে না পেরে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মা গৃহিণী।
২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করেন তামান্না। সেবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কোন কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি তামান্না। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আবারও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকা ৪৭২৮তম স্থান করে নেন। নিজের স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে তামান্না বাবা মায়ের মুখেও হাসি ফুটিয়েছেন। তার স্বপ্ন একদিন সুচিকিৎসক হয়ে গ্রামের অসহায় মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন।
তামান্না হরিদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে পিএসসিতে জিপি-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে জেএসসি ও ২০২১ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পান। পরে ভর্তি হন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে। সেখানে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করেন জিপিএ ৪.৯২ পেয়ে। এবার ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে তার টেস্ট স্কোর ৭৮ ও মেরিট স্কোর ১৭৪.২ নম্বর।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তামান্নাদের আশপাশের কোন গ্রামে মেডিকেলে পড়েছেন এমন শিক্ষার্থী নেই। তার দরিদ্র বাবা টাকা ঋণ নিয়ে, জমি বিক্রি করে মেয়ের পড়াশোনা করিয়েছেন। তার মা-বাবা শত কষ্টের মধ্যেও মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে সে কোচিং করতে পারেনি। তারপরও আটকে থাকেনি তামান্নার জয়যাত্রা।
তামান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার বাবা ঋণ করে আমাকে পড়ালেখা করিয়েছেন। সেই ঋণ এখনও শোধ করতে পারেনি। বাড়িতে থাকতে না পেরে বাবা ঢাকা চলে গেছেন। টাকার কষ্ট-মানুষের কথা সব সহ্য করতে হয়েছে আমাকে। এখন আমি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হব এই আর্থিক অবস্থাও আমাদের নেই।
তামান্নার মা সেলিনা বেগম বলেন, এমনিতেই আমরা খুব গরীব। দুই মেয়েকে লেখাপড়া করাতে গিয়ে অনেক ঋণ নিতে হয়েছে। কিস্তির জন্য এনজিও থেকে বাড়িতে আসে— এই ভয়ে তামান্নার পিতা দুই বছর ধরে ঢাকায় পড়ে রয়েছে। তামান্নার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে না আসলে তামান্না মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে না। ওর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হবে না।
এদিকে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, তামান্না আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা তাকে সহযোগিতা করব। আমাদের বণিক সমিতি ও উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে। এছাড়াও জেলা প্রশাসক আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে বলেছেন। স্যারও সহযোগিতা করবেন।