ময়মনসিংহে অটোরিকশা চালকদের ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নগরীর সব সড়কে চলাচলের অনুমতির দাবিতে ময়মনসিংহে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে অটোরিকশা না থাকায় অনেক যাত্রী রিকশায় যাতায়াত করছেন। এ সুযোগে অনেক রিকশাচালক দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছেন। এ ছাড়া অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ছেন অটো যাতায়াতকারীরা।

এর আগে রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে নগরের ‘রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে’প্রতিবাদ সমাবেশ করে চালক ও মালিকরা অটোরিকশা চলাচলের বন্ধ ঘোষণা করেন।

ভুক্তভোগী ময়মনসিংহ মেডিকেলে কর্মরত এক কর্মকর্তা বলেন, আমি নগরীর কাচিঝুলি এলাকায় বসবাস করি। প্রতিদিন বাসা থেকে অটোতে করে কর্মস্থলে যাই হঠাৎ অটো বন্ধ হয়ে যাওয়াতে আমি পড়েছি বিপদে।

মোসারফ শিবলী নামে এক চাকরিজীবী বলেন, সকালে অটোরিকশা না পেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় রিকশায় চড়ে কর্মস্থলে গিয়েছি। দ্রুত প্রশাসন অটোচালকদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান হওয়া দরকার।

নগরীর বলাশপুর এলাকা থেকে প্রগেসিভ স্কুলে ছাত্র নিয়ে আসা এক অভিভাবক বলেন, অটোরিকশা না থাকায় প্রায় চারগুণ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে এসেছি। এটা আমাদের জন্য ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির কারণ। দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা দরকার।

পায়ে হেঁটে পাটগুদাম ব্রিজ থেকে ছোট বাজার যাচ্ছিলেন মধ্যবয়সী রবিউল করিম। তিনি বলেন, এদিকে অটোরিকশা বন্ধ থাকায় রিকশাচালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছি।

অন্যদিকে মোটরসাইকেল চালক ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীরা চলাচলের ক্ষেত্রে স্বস্তির কথা জানিয়েছে। ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ মোহন বলেন, আমি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচল করি। একটা সিটিতে অটোরিকশা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক তা আমরা জানি। রাস্তায় কোনো যানজট নেই। চলাচল করে অনেক স্বস্তি পেয়েছি।

জেলা অটোবাইক মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হোসাইন আহমেদ সুজন বলেন, সব সড়কে গাড়ি চালানোর অনুমতি চেয়ে গত ১৯ জানুয়ারি কর্মবিরতির পালন করা হয়েছে। এদিন জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশন কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখেছে চালক ও মালিকরা। আমাদের দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ছয়টি সড়কে (জিলা স্কুল মোড়, নতুন বাজার, গাঙ্গিনারপাড়, সি কে ঘোষ রোড, দূগার্বাড়ী রোড এবং স্বদেশী বাজার) ব্যাটারিচালিত সব ধরনের অটোরিকশা ও মিশুক চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে অটোরিকশাচালক ও মালিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি কর্মবিরতির পালন করে জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশন কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় কর্মবিরতি শেষে অটোচালকরা অবিলম্বে নির্দিষ্ট ছয়টি সড়কে অটো চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানায়।

কিন্তু জেলা প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকা রোববার ফের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন অটোচালকরা।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ বলেন, সম্প্রতি যানজট কমানোর জন্য শহরের নির্দিষ্ট ছয়টি সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন। এতে চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করে ধর্মঘট করছে। বিষয়টি আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।