২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির জন্য সৌদি আরবে কাজ করা অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় স্বাধীন পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিফা। আফ্রিকান ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের (আইটিইউসি-আফ্রিকা) এই আহ্বান উপেক্ষা করে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট এবং আয়োজক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ফিফার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে আইটিইউসি-আফ্রিকা
আফ্রিকার ১৮ মিলিয়ন শ্রমিকের প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থা গত মাসে ফিফাকে একটি চিঠি দিয়ে সৌদি আরবের "উদ্বেগজনক মানবাধিকার রেকর্ড" নিয়ে তাদের অবস্থান জানানোর আহ্বান জানায়। তারা ফিফাকে কফালা ব্যবস্থার সমাপ্তি এবং শ্রমিকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে স্বাধীন মনিটর নিয়োগের দাবি জানায়।
ফিফার সাধারণ সম্পাদক ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম আইটিইউসি-আফ্রিকার চিঠির জবাবে সরাসরি এই দাবিগুলোতে সাড়া না দিয়ে বলেন, সৌদি আরব তাদের বিড ডকুমেন্টে শ্রমিকদের কল্যাণে একটি "ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার সিস্টেম" গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিতর্কিত বিড ডকুমেন্ট
ফিফার উল্লেখিত "ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার সিস্টেম" শব্দটি সৌদি আরবের বিড ডকুমেন্টে সরাসরি উল্লেখ নেই। তবে সেখানে একটি "ওয়ার্কিং গ্রুপ" তৈরির কথা বলা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সরকারি দফতর কাজ করবে। এছাড়া জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই সহযোগিতার প্রকৃতি নিয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
বিশাল কর্মযজ্ঞের চ্যালেঞ্জ
সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি অভিবাসী শ্রমিক বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিশ্বকাপ অবকাঠামো নির্মাণের কাজে যুক্ত হবেন। এই প্রকল্পগুলোতে ১১টি নতুন স্টেডিয়াম, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং ১ লক্ষ ৮৫ হাজার নতুন হোটেল রুম নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত।
ফিফার প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চিঠিতে গ্রাফস্ট্রোম বলেছেন, “ফিফা আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তার মতে, বিশ্বকাপ সৌদি আরবকে “আলোচনায় নিয়ে আসার” এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনার একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।
সমালোচনা ও প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান
বিশ্বকাপ আয়োজনের এই প্রক্রিয়ায় ফিফার ভূমিকা এবং সৌদি আরবের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষত, স্বাধীন পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবি প্রত্যাখ্যান করার কারণে ফিফার এই অবস্থান আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।
২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে বিতর্কিত এই অবস্থান ফিফার স্বচ্ছতা ও সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা তৈরি করবে বলেই ধারণা।