আবারও টক অব দ্য টাউন

চুপ করে থাকতে চান না ঢালিউডের আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। প্রায়শই আলোচনার টেবিলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ অভিনেত্রী এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে তাকে নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ভিন্ন কারণে।

আলোচনার শুরু মূলত গত ২৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে ‘হারল্যান স্টোর’ নামে একটি প্রসাধনী পণ্যের শোরুম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরীর যাওয়া নিয়ে। স্থানীয় ‘ধর্মপ্রাণ মুসলমান’ ও হেফাজত নেতাদের প্রবল আপত্তি ও হুমকির মুখে স্থগিত করা হয় অনুষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে শো-রুমটির মালিক ও হারল্যানের পরিবেশক মীর মাসুদ রানা জানিয়েছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরীমণির থাকা নিয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বাধা আসে।

বিষয়টি নিয়ে হেফাজতে ইসলামের এক নেতা ফোনও করেছিলেন। অনুষ্ঠান বাতিল না করলে তারা অবস্থান কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বলে জানান মীর মাসুদ।

আর এতেই ক্ষুব্ধ হন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ওইদিন রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, ‘এত চুপ করে

থাকা যায় নাকি! পরাধীন মনে হচ্ছে। শিল্পীদের এত বাধা কেন আসবে!? অনিরাপদ অনুভব করছি!

এমন স্বাধীন দেশে নিরাপদ নই কেন আমরা প্রশ্ন রেখে স্ট্যাটাসে পরী বলেন, মেহজাবীন, পড়শী এর আগে এমন হেনস্তার শিকার হয়েছেন! ধর্মের দোহাই দিয়ে কী প্রমাণ করতে চলেছেন তারা! কী বলার আছে আর...। এ দেশে সিনেমা/বিনোদন সব বন্ধ করে দেওয়া হোক তাহলে! তাহলে কি আমরা ধরে নেব, আমরা ইমোশনালি ব্যবহার হয়েছিলাম তখন! নাকি এখন হচ্ছি? কোনটা? এই দায়ভার কিন্তু আমাদের সবার নিতে হবে বলেও স্ট্যাটাসে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন পরীমণি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খবরটি শুনে বেশ খারাপ লেগেছে, অসহায় লেগেছে। এমন কেন হবে? আমার দেশে আমি কেন নিরাপদে নিজের কাজটা করতে পারব না।

তিনি বলেন, অন্যদের মতো চুপ করে থাকতে পারি না। যেকোনো অন্যায় নিয়ে আগেও কথা বলছি। এই অন্যায় নিয়ে কথা বলার কারণে যদি আমাকে বারবার জেলে যেতে হয়, আমি গেলাম।

তবে আলোচনা নতুন মোড় নেয় রবিবার পরীর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর প্রকাশের পর। ২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর ও ভাঙচুরের মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরে গতকাল সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুনাইদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পরীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

জামিন পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ নায়িকা বলেন, ‘বরাবরই আমার আইনের ওপর বিশ্বাস ছিল। শ্রদ্ধা ছিল। এখনো আছে। আমার এই বিশ্বাস শেষ অবধি রাখতে চাই।’