চুল পড়া কমছে না কেন

একজন সুস্থ মানুষের মাথায় গড়ে এক থেকে দেড় লাখ চুল থাকে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টা পর্যন্ত চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পড়লে তা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। যতœ নেওয়া সত্ত্বেও মাথা থেকে চুল পড়ছে ঝরঝরিয়ে। স্বাস্থ্যকর খাবার, পরিমিত পানি, নানা রকমের যতেœর পরও কোনো লাভ হচ্ছে না। তা হলে সরাসরি চিকিৎসকের কাছে যান। আর জানার চেষ্টা করুন কেন চুল পড়ছে। যেসব কারণে চুল পড়তে পারে।

অতিরিক্ত স্ট্রেস : অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র এবং পাচনতন্ত্রে ভয়ানক চাপ পড়ে। এর ফলে আস্তে আস্তে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে। অত্যধিক মানসিক চাপে থাকা অবস্থায় আমরা যা কিছু খাই না কেন, শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। আর পুষ্টির অভাবে চুল পড়তে থাকে, চুল পাতলা হয়ে যায় এমনকি চুল নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

ডায়েট : শরীরে বায়োটিন, জিঙ্ক এবং ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হলে চুল পাতলা হতে থাকে। আসলে ভিটামিন ডি-এর অভাব অ্যালোপেসিয়া বাড়ে। সুতরাং, সুষম খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখতে পারলে তবেই চুল পড়া বন্ধ হবে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও চুল পড়া বাড়ে। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। নিজে থেকে কোনো পদক্ষেপ নিতে যাবেন না বা পারলারে গিয়ে উল্টোপাল্টা হেয়ার ট্রিটমেন্ট করবেন না।

ওজন কমানো : ওজন কমানোর প্রবণতার কারণেও চুল ঝরতে পারে। ওজন কমানোর সময় আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি গ্রহণ বন্ধ করে দিই। শরীরে পুষ্টির ঘাটতির ফলে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

অতিরিক্ত খুশকি : চুল পড়ার আরেকটি কারণ হলো খুশকি। মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে খুশকি হয়। মৃত কোষে মাথা ভরে গেলে মাথার ত্বক চুলকাতে থাকে। এর ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। চুল ঝরতে থাকে। চুল পাতলা হয়ে যায়।

বয়স : পুরুষ হোক বা মহিলা, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে নানা পরিবর্তন ঘটতে থাকে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে এবং চুল পাতলা হয়ে যায়। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলেও চুল পড়া বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে।