গাজীপুর জেলা শহরের মানুষের প্রধান সমস্যা জয়দেবপুর রেলগেট। প্রতিদিন অন্তত ৫২ জোড়া ট্রেন গাজীপুর রেলক্রসিং পার করে। এতে প্রতিদিন অসহনীয় যানজটে পড়েন শহরের মানুষ। আর সেই সঙ্গে কয়েকবছর ধরে খানাখন্দ রাস্তার কারণে এ সড়কটি দিয়ে চলাচল ছিল কষ্টসাধ্য। নানা প্রতিবন্ধকতা পার হয়ে সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশন রাস্তাটি সংস্কার কাজে হাত দিয়েছে। ইতিমধ্যে সড়কের একপাশ আরসিসি ঢালাই শেষ করে যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্য অংশের অর্ধেকটাও ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে এ সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এস এম শামসুর রহমান মাহমুদ বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন ১ থেকে ৫ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় শিববাড়ি বিআরটি অফিস থেকে পূর্ব দিকে রাজবাড়ি হয়ে জোরপুকুরপাড় উমেদা খাতুন স্কুল পর্যন্ত রাস্তা ড্রেন আরসিসি ও কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পে ১০টি কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ শেষ হয়েছে।
তিনি জানান, ২১ কোটি ৬৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে গাজীপুরের প্রধান সড়ক শিববাড়ি বিআরটি অফিস থেকে পূর্ব দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১৫ মিটার প্রশস্ত বেহাল সড়কটি নির্মাণে ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন হয়। ইতিমধ্যে রেলগেট থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত রাস্তার উত্তরপাশের অংশ আরসিসি ঢালাই শেষে চালু করা হয়েছে। আর রেলগেট থেকে শিববাড়ি বিআরটি অফিস পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি পুরুত্বের আরসিসি ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে ওই অংশ খুলে দেওয়া হবে। পরে রেলগেট থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত দক্ষিণ অংশের সড়কটির কাজ শুরু করা হবে। প্রকল্পের কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও রাস্তাটি সংস্কার করায় নগরবাসী চলাচলে স্বাচ্ছন্দ ভোগ করবে। তবে রেললাইনের ওপর একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ না করা হলে দুর্ভোগ থেকেই যাবে।
গাজীপুর বারের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তাটি সংস্কা করার ফলে চলাচলে অনেক সুবিধা হবে। তবে সড়কটির উভয় পাশে ফুটপাত থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদ করতে হবে। তা হলে মানুষের চলাচলের করা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।