টবি ক্যাডম্যানের আশা

সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে ভারত হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে

জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে ভারত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যান। তিনি বলেছেন, ‘আমি আশা করি, ভবিষ্যতে ভারত ন্যায়বিচারের পক্ষেই অবস্থান নেবে।’

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

ব্রিটিশ আইনজীবী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ও লন্ডনভিত্তিক ল’ ফার্ম ‘গুয়ের্নিকা ৩৭’ গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা টবি ক্যাডম্যানকে গত বছরের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দেওয়া চিঠির বিষয় নিয়ে ভারতের মৌনতার বিষয়-সংক্রান্ত এক প্রশ্নে টবি ক্যাডম্যান বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশের) যথাযথভাবে ভারতকে প্রত্যর্পণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তবে, এটা ভারতের ব্যাপার যে, তারা ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি তাকে (হাসিনা) বিচার থেকে রেহাই দেওয়ার পক্ষে অবস্থান করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিঠির জবাবে ভারতকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকার জোর করতে পারে না ঠিকই, কিন্তু আমরা আশা করতেই পারি, তাকে এ দেশে আনা হবে এবং বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

টবি ক্যাডম্যান উল্লেখ করেন, ‘এখানে বলে রাখা ভালো, ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তিনি (শেখ হাসিনা) আত্মপক্ষ সমর্থনের সব সুযোগ পাবেন।’

অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে একজন পেশাদার হিসেবে কাজ করতে এসেছি এবং তাই করব। অতীতের কোনো ঘটনা, কারও কার্যকলাপ কিংবা আগে আমার কাজের পরিধি কী ছিল, তা একে প্রভাবিত করবে না। যেহেতু এই মামলাগুলো জটিল এবং এর কার্যবিধি সময়সাপেক্ষ, সুতরাং এই বিধিগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে তাড়াহুড়ো করার কোনো সুযোগ নেই।’

দুই আওয়ামী লীগ নেতা ও ছয় পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা : জুলাই- আগস্টের গণহত্যার মামলায় দুই আওয়ামী লীগ নেতা ও ছয় পুলিশ কর্মকর্তাসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তবে গ্রেপ্তার ও তদন্তের স্বার্থে কোনো আসামির নাম বলেননি তিনি।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ছয়জন পুলিশ। বাকি দুজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে আমাদের তদন্ত সংস্থা। তারা প্রত্যেকেই ঢাকা শহরের চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নিশ্চিত হওয়ার পরই তদন্ত সংস্থা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছে। তবে আসামিরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তাদের নাম প্রকাশ করছি না।’