ট্রাম্প - মোদি ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে ফোনালাপে ন্যায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আওতা ও ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়ে দুই নেতাই একমত হয়েছেন। আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতে দিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আর্থিক মূল্য ১১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছিল। এই সময়ে ভারতের উদ্বৃত্ত ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে বেশ উষ্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারণাকালে বাণিজ্যের বিষয়ে ভারতকে আগ্রাসী বলে অভিহিত করেন তিনি। বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিকভাবে অন্যায্যতার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। মোদির সঙ্গে অভিবাসন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। অভিবাসী সংকট সমাধানে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলাপের কথা বলেছেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে মোদি যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের রোষ থেকে রেহাই পায়নি ব্রিকস গোষ্ঠীও। নিজস্ব মুদ্রা চালু করে মার্কিন ডলারকে দুর্বল করার কোনোও চেষ্টা করলে তাদের একহাত দেখে নেওয়ার হুমকি নিয়েছেন ট্রাম্প। ভারত ও চীন এই ব্রিকস গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আবার বেইজিংয়ের আধিপত্য ঠেকাতে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংলাপ কোয়াডের অংশীদারও দিল্লি। ভারত সরকারের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষাসহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প ও মোদি। যোগাযোগ নিয়মিত বজায় রাখার বিষয়ে তারা সম্মত হয়েছেন। পাশাপাশি দুজনের জন্যই সুবিধাজনক কোনো একটা সময়ে সশরীরে সাক্ষাতের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারা।

দুই নেতার আলোচনায় স্থান পেয়েছে চার দেশীয় জোট কোয়াড। এই জোটের বিষয়ে ট্রাম্প ও মোদি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। চলতি বছর ভারতে এই জোটের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যোগ দিতে এ বছরের শেষ দিকে ভারত সফর করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।

এদিকে, আরেক মিত্র যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গেও ফোনালাপ করেছেন ট্রাম্প। গত রবিবার (২৬ জানুয়ারি) এই আলোচনায় নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক উষ্ণ ও গভীর করার প্রত্যয় জানিয়েছেন ট্রাম্প-স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শিগগিরই বৈঠক করার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা।