প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পর হচ্ছে প্রথম নির্বাচন

দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারের কোনো পরিবর্তন আসেনি ১৫ বছরে। এই সময় হয়নি কোনো নির্বাচন। নির্বাচনী সভায় বসে আঙুলের ইশারায় নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে ভাঙতে যাচ্ছে সেই অচলায়তন। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে হতে যাচ্ছে নির্বাচন। নিজেদের স্বার্থেই নতুন  নেতৃত্ব চান তারা।

আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই, ১০ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাহার ও ১২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

সহকারী নির্বাচন কমিশনার ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার আগেই সদস্য নবায়ন ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ৬৩০ জন ভোটার রয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ 

খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টরের একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০০৭ সালে ব্যবসায়ীরা এ সংগঠন গড়ে তুললেও ইতিপূর্বে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে আঙুলের ইশারায়। একই ব্যক্তিকে বারবার শীর্ষ পদে রেখে নিজেদের মধ্যে পদ ভাগাভাগি করা হয়েছে। এর ফলে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি একটি অকেজো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, ভোগ্যপণ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ একসময় পুরো দেশে শীর্ষে ছিল। একে বলা হতো প্রাচ্যের ‘ওয়াল স্ট্রিট’। কিন্তু কালক্রমে ব্যবসায়িক জৌলুস হারিয়েছে খাতুনগঞ্জ। এখান থেকে ব্যবসা চলে গেছে অন্যত্র। এক সময় এখানে দিনে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলেও তা এখন নেমে এসেছে একশ থেকে দেড়শ কোটিতে। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই এমনটি হয়েছে। প্রথমবার হতে যাচ্ছে নির্বাচনে আশা করছি ব্যবসায়ীরা যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে সক্ষম হবেন।

প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সভাপতি হন মোস্তফা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান হেফাজতুর রহমান। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ সগির আহমদ। ২০০৯ সালে এসে সভাপতি করা হয় মাহবুবুল আলমকে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে যান আগেরজন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই দুই পদে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এমনকি মাহবুবুল আলম চার দফা চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি হলেও খাতুনগঞ্জ ট্রেডের সভাপতির পদ ছাড়েননি। ২০২৩ সালে এফবিসিসিআইএর সভাপতি হলে বাধ্য হয়ে খাতুনগঞ্জ ট্রেডের সভাপতির চেয়ার ছাড়েন। এরপর বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।

তবে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না এদের কেউই। গত ১৮ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দ সগির আহমদ বলেন, ব্যবসায়ীরা চেয়েছেন বলেই দীর্ঘ সময় অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব পালন করেছি। আমিও চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক।