বলিভিয়াকে হারিয়ে ফাইনাল হেক্সাগোনালের পথে আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-১ ড্র করার পর দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বলিভিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল হেক্সাগোনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

ভেনেজুয়েলার মিসায়েল দেলগাদো স্টেডিয়ামে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন তেও রোদ্রিগেজ পাগানো। শেষ বাঁশির পাঁচ মিনিট আগে মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত এক শট নিয়ে তিনি বলিভিয়ান গোলকিপার ফাবিয়ান পেরেইরারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের তুলনায় দিয়েগো প্লাসেন্তে দলে ১০টি পরিবর্তন আনেন। কেবলমাত্র গোলকিপার সান্তিনো বারবি ছিলেন অপরিবর্তিত, যিনি আর্জেন্টিনার ক্লাব তাল্যেরেস দে কর্দোবার বয়সভিত্তিক দলে খেলেন।

প্রথমার্ধে খুব বেশি উত্তেজনা ছিল না। তবে আর্জেন্টিনা একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল। ২০ মিনিটে হুয়ান ভিয়ালবা দুর্দান্ত এক আক্রমণ গড়েন, যার শেষ শটে রোদ্রিগেজ পাগানোর শট বলিভিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করলে তা অল্পের জন্য আত্মঘাতী গোল হতে যাচ্ছিল। কর্নার কিক থেকে পাওয়া বল ডিলান গোরোসিতো ইনস্টেপ দিয়ে মেরে বাইরে পাঠান।

৩২ মিনিটে বলিভিয়ার লিওনার্দো মন্তেনেগ্রোর শট ডিফ্লেক্ট হলে, গোলরক্ষক বারবি ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে বল রক্ষা করেন।৪৫ মিনিটে ভিয়ালবার হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়। প্লাসেন্তে "দিয়াবলিতো" ক্লাউদিও একেভেরি ও মিলটন দেলগাদোকে নামান। ৫৭ মিনিটে ভ্যালেন্তিনো আকুনার তৈরি করা আক্রমণে ইয়ান সুবিয়াব্রে দারুণ এক শট নিলেও তা পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ৭০ মিনিটে এচেভেরির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

৮৫ মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল—রোদ্রিগেজ পাগানো দূরপাল্লার শটে জাল খুঁজে নেন, যেখানে বলিভিয়ান গোলকিপারের দুর্বল প্রতিক্রিয়া জয়ের পথ খুলে দেয় আর্জেন্টিনার জন্য। যে জয় তাদেরকে নিয়ে গেছে হেক্সাগোনালের পথে।

মূলপর্ব শেষে শীর্ষ ছয় দল নিয়ে শুরু হয় "ফাইনাল হেক্সাগোনাল"। এই রাউন্ড-রবিন ভিত্তিক পর্বে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলে। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চার দল অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।

আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ পর্ব শেষে শীর্ষ তিনে থাকে, তাহলে তারা ফাইনাল হেক্সাগোনালে উঠবে এবং যুব বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ পাবে।

এই জয়ের ফলে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ইকুয়েডরের বিপক্ষে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা। এদিকে, টানা তিন হারের পর বলিভিয়া এখন বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। তাদের শেষ ম্যাচ ৩০ জানুয়ারি কলম্বিয়ার বিপক্ষে।

এই জয়ে বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আধিপত্য আরও সুসংহত হলো। নয় ম্যাচের আটটিতেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। একমাত্র ড্র হয়েছিল ২০১৩ সালে মেন্দোসায় অনুষ্ঠিত আসরে।

বলিভিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে কখনো খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাদের সেরা সাফল্য ১৯৮১ ও ১৯৮৩ সালের দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে চতুর্থ স্থান অধিকার করা।

এই জয়ের মাধ্যমে দিয়েগো প্লাসেন্তের দল ফাইনাল হেক্সাগোনালে জায়গা পেতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এখন দেখার বিষয়, ইকুয়েডরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তারা শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে কি না!