জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৯ টি ব্যাংক হতে ইস্যুকৃত ডিডি- চেক-পে-অর্ডার ও ব্যাংক গ্যারান্টির সকল লেনদেন বর্জন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের খুলনা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী-এর দপ্তর। ফলে ব্যাংক গুলোর গ্রাহকরা চার মাসের অধিক সময় ধরে বর্জনকারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে অংশ গ্রহণসহ কোনও প্রকার লেনদেন করতে পারছে না। এতে চরম বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষের অসংখ্য ব্যবসায়ী ও সেবা প্রত্যাশীরা।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ সরকারের সহায়তা কার্যক্রম ও নিজস্ব আয় থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে পরিচালনা বাজেটের ব্যয় নির্বাহ করে। নিজস্ব আয়ের উৎস্যের মধ্যে পাইলটেজ, কনজারভেন্সি চার্জ, বিভিন্ন ঘাট-পয়েন্ট-খাল ইজারা, তীরভূমি লাইসেন্স ফি, এলএসসি, ড্রেজার রাজস্ব, দরপত্র, ভবণ ভাড়া, পানির বিল, বিদ্যুৎ বিল, থ্রুপুট চার্জ, বাদিং চার্জ, নিলাম, আয়কর, ও ভ্যাট, জামানত, হাইড্রোচটি ও জরিপ কাজ অন্যতম।
এসব আয়ের উৎস্যের বিপরীতে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি, পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি হতে ইস্যুকৃত ডিডি-চেক-পে-অর্ডার ও ব্যাংক গ্যারান্টির সকল লেনদেন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ২২ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের খুলনা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর ব্যবসায়ী ও সেবা প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্যে বিষয়টি নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তবে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এখনো তা প্রত্যাহার করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে ভূক্তভোগী মো. আজগর আলী ও বনিসহ একাধিক ঠিকাদার দেশ রূপান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন থেকেই উল্লিখিত ব্যাংকগুলোতে অনেক ঠিকাদারের হিসাব খোলা রয়েছে। সেসব হিসাব থেকেই পে-অর্ডার, চেক বা ব্যাংক গ্যারান্টি (সিকিউরিটি মানি) নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের দরপত্রে অংশ গ্রহণ করে। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া পর থেকে ব্যাংকগুলোর গ্যারান্টি বর্জন করছে। সংগত কারণে ব্যাংক গুলোতে হিসাবে অর্থ থাকা ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যবসায়িক লেনদেন করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছে। দরপত্রের সঙ্গে ব্যাংক গুলোর পে-অর্ডার বা বিডি জমা দিলে সেই দরপত্রটি বাতিল করা হচ্ছে। শুধুই দরপত্রেই না, তাদের রাজস্ব আয়ের সকল প্রকার লেনদেন ব্যাংকগুলো গ্যারান্টি গ্রহণ থেকে বিরত থাকছে।
এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর খুলনা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ঋদ্ধি রুবাইয়াৎ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এস আলম গ্রুপভুক্ত ৬টিসহ মোট ৯ টি ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ব্যাংকে যথেষ্ট তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যাংক গুলো হতে সে সব ডিডি-চেক-পে-অর্ডার ও ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করা হচ্ছে তা বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পিকচার প্যালেস শাখার ম্যানেজার অপারেশন মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন তারল্য সংকট ছিল। তবে সেই সংকট এখন আর নেই।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক পিএলসির খুলনা সদর থানা মোড় শাখার ম্যানেজার তাপস কুমার সাহা বলেন, সামান্য কিছুদিন কিছু শাখায় লেনদেনে কিছুটা সমস্যা ছিল। তবে সেই সংকট কেটে গেছে। এখন প্রতিদিন শাখা থেকে ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকাও পাশ হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি-এর খুলনা ব্রাঞ্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার মো. সাহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার অধীনে ব্যাংকের ৫টি শাখা রয়েছে। কোনো শাখায় তারল্য সংকট নেই। পে-অর্ডার ও চেক সবই ক্যাশ হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানিতে ২৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে অনেক গ্রাহক বেশি টাকা চাইলে তখন সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তবে নয়টি ব্যাংক দুর্বল চিহ্নিত বা ক্লিয়ারেন্সে অসুবিধা হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের খুলনা শাখার একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।