বলিউড কিংবা তামিল, উভয় জগতেই সমানতালে কাজ করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ‘পুষ্পা’ ও ‘অ্যানিম্যাল’ সিনেমার মাধ্যমে পেয়েছেন আকাশছোঁয়া সফলতা। তবে এখনো নিতান্তই সাদামাটা ও সহজ-সরল চিন্তাভাবনা তার; উচ্চাকাক্সক্ষার ছাপ নেই জীবনে। বলা হচ্ছে রাশ্মিকা মান্দানার কথা। এত সাফল্যের পরও অভিনেত্রীকে কখনো অহংকার বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়নি।
কীভাবে সবার সঙ্গে নম্র আচরণ করেন? ভারতীয় ম্যাগাজিন ফেমিনাকে দিয়েছেন এ প্রশ্নের উত্তর। নিজের পরিবার ও বন্ধুদের কৃতিত্ব দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত নম্রতার জন্য আমার বাড়তি কোনো প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়ে না। ওরা আমার জীবনে সঠিক মানুষ, আমাকে শেকড়ের সঙ্গে জুড়ে রেখেছে। তারাই আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও সত্যিকারের সাহায্য করে। তারা সবসময় আমাকে ভালোবাসতে শেখান।’
তার ক্যারিয়ারের সফলতার কথা বলতে গেলে প্রথমেই উঠে আসবে ‘পুষ্পা’ সিনেমার কথা। বিশেষ করে, ‘পুষ্পা ২’ সুপাস্টার প্রভাসের ‘বাহুবলী ২’-সিনেমার মোট আয়কে ছাপিয়ে যাওয়াসহ সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই সিনেমায় আল্লু অর্জুনের বিপরীতে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন রাশ্মিকা। তবে তিনি এ সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন পরিচালক সুকুমারকে।
‘পুষ্পা’ খ্যাত অভিনেত্রী বলেন, ‘‘আমি মনে করি ‘পুষ্পা’ ছিল সুকুমার স্যারের খেলার মাঠ; তিনি একজন মাস্টারমাইন্ড! তিনি (পরিচালক সুকুমার) আমাদের কখনো নির্দিষ্ট গল্প শোনাতেন না; আমরা কাজ করতে করতে গল্পটি খুঁজে বের করেছি।’’
শ্রীবল্লী চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ফেমিনাকে তিনি বলেন, ‘আমাকে যে বর্ণনা বা অন্য কিছু বলা হয়েছে, শ্রীবল্লী এমন কোনো চরিত্র ছিল না। আমি শুধু এতটুকুই জানতাম, সুকুমার স্যার একজন জিনিয়াস এবং এটি তাকে করে দেখাতে হবে।’
ক্যারিয়ারে রাশ্মিকা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে অভিনয়ে সফলতা ও তারকাখ্যাতির চেয়ে রাশ্মিকা মান্দানার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা যেসব জিনিস চাই, যা উপভোগ করি এসব বিলাসিতা এই মুহূর্তে আছে তো পর মুহূর্তে নেই। আর এই বিশ্বাস আমাকে শেকড়ের সঙ্গে জুড়ে রাখে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মা আমাকে সবসময় বলতেন, তুমি তোমার পেশা এবং ব্যক্তিগত জীবনকে সমানতালে রাখতে পারবে না; একটির জন্য অন্যটি ত্যাগ করতে হবে।’