সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে সর্বনিম্ন মজুরি ১৮ হাজার টাকা দেওয়াসহ ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য পাঁচটি গ্রেডে সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন ট্যানারিতে কর্মরত শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে সাভারের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে কর্মরত শ্রমিকরা দ্বিতীয় দিনের মতো সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে এ কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, অন্যান্য সেক্টরে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার পরপরই তা বাস্তবায়ন হলেও ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি এখনো বাস্তবায়ন করেননি মালিকরা। বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করে মালিকপক্ষ শুধু কালক্ষেপণ করছে। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রমিকরা।
বিক্ষুব্ধ ট্যানারি শ্রমিকরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। গত বছরের ২১ নভেম্বর মালিক, শ্রমিক, ইউনিয়নসহ সব পক্ষের সম্মতিতেই মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময় মজুরি বোর্ডে সর্বনিম্ন মজুরি ১৮ হাজার ১ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু এখনো আমাদের মজুরি বোর্ড বাস্তবায়ন হয়নি। কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ট্যানারি মালিকরা সরকার ঘোষিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে আগের মতো মজুরি দিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় দিনের পর দিন আন্দোলন করলেও ট্যানারি মালিকরা মেনে নিচ্ছেন না। অবিলম্বে দাবি মেনে না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
ট্যানারি শ্রমিকদের অন্য দাবিগুলো হলো প্রতিটি কারখানায় শ্রম আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শন কার্যক্রম স্বচ্ছ, কার্যকর ও জোরদারকরণ, স্থায়ী কাজে কোনো অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না, মধ্যস্বত্ত্বভোগী বেআইনি কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজ করানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শ্রমিক ছাঁটাই ও টারমিনেশন বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল স্থাপন, শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে ক্যান্টিন ও আবাসন ব্যবস্থা চালু, প্রস্তুতি কল্যাণ সুবিধাসহ নারী শ্রমিকদের সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে, আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ মোতাবেক শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, ট্যানারি শিল্পে কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর ও সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, আমরা আলোচনা করেছি, তবে এখনো সমাধান হয়নি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বসে এটা সমাধান করতে হবে।