কুমিল্লায় তৌহিদুল ইসলাম নামে এক যুবদল নেতাকে গত বৃহস্পতিবার রাতে যৌথ বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ মিলেছে নদীর পাড়ে। নিহত তৌহিদুল সদর উপজেলার পাঁচথবী ইউনিয়নের ইটাল্লা গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তিনি সদরের পাঁচথবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন।
পরিবার থেকে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে তৌহিদুলকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ তাদের ফোন করে জানায়, তৌহিদুল আহত অবস্থায় গোমতী নদীর পাড়ে পড়ে আছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে তারা হাসপাতালে গিয়ে তৌহিদুলকে মৃত দেখতে পান।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহিনুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, যৌথ বাহিনী আমাদের শুক্রবার বেলা ১১টায় জানায়, গোমতী নদীর পাড়সংলগ্ন ‘গোমতী বিলাসে’ একজন আহত অবস্থায় আছে। পরে সেখান পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার তানভির আহমেদ বলেন, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ তৌহিদুল ইসলামকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তৌহিদুল ইসলামের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ টিপু বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে তৌহিদুলকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যান। শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে আমার ভাইয়ের লাশ দেখতে পাই।
তৌহিদুলের চাচাতো ভাই রবিউল ইসলাম জানান, চার দিন আগেই তৌহিদের বাবা মারা যান। বৃহস্পতিবার রাতে তার কুলখানির জন্য গরু জবাই করা হয় বাড়িতে। রাত ২টার দিকে যৌথ বাহিনী বাড়ি থেকে তৌহিদকে তুলে নিয়ে যায়। রবিউল বলেন, ‘চার দিন আগে বাবাকে হারানো তৌহিদুলকে পিটিয়ে মেরে ফেলল যৌথ বাহিনী। অথচ তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ নেই।’
এদিকে তৌহিদকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মোরশেদ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘যৌথ বাহিনীর ফোন পেয়ে ওসি স্যারকে বলে আমি গাড়ি নিয়ে যাই। তখন যৌথ বাহিনী আমাকে তৌহিদকে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু তৌহিদের অবস্থা বেগতিক দেখে আমি তাদের বলি আমি একা নেব না। আপনারাও আসেন। কিন্তু তারা আসতে রাজি হয়নি। আমি তৌহিদকে যখন গাড়িতে ওঠাই তখনো তার জীবন ছিল। কিন্তু কুমেক হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু বলেন, ‘অতিরিক্ত মারধরের কারণে তৌহিদের মৃত্যু হয়েছে এটা বলাই যায়। যতদূর জানি তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। পুলিশও কিছু বলছে না। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।’
ওসি মাহিনুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তৌহিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।