রাশিয়ায় ইসলামি ব্যাংকিংয়ের চাহিদা বাড়ছে

পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ দেশ রাশিয়ায় প্রায় আড়াই কোটি মুসলমানের বসবাস। ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে বেশ কিছু ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও কোনো ইসলামি ব্যাংক ছিল না। মুসলমানদের হালাল লেনদেনের সুবিধার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে তিন বছরের জন্য ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমটি প্রযোজ্য হয় রাশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চারটি প্রজাতন্ত্র তাতারস্তান, বাশকোরতোস্তান, চেচনিয়া ও দাগেস্তানে।

সম্প্রতি রাশিয়া ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের অর্থবাজার-সংক্রান্ত কমিটির প্রধান আনাতোলি আকসাকভ অরিন্ডা নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এটি আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতি নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এই সময়সীমা আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে। আনাতোলি আকসাকভ বলেন, ‘ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেবল মুসলমানদের মধ্যেই নয়, অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।’

২০২২ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার ওলামা কাউন্সিল ইসলামি নীতির আলোকে শেয়ার কেনাবেচার অনুমোদন দেয়। তবে এই অনুমোদনের তিনটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কার্যক্রম অবশ্যই শরিয়াহ আইনসম্মত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানগুলো জুয়া, অ্যালকোহল কিংবা শূকরের মাংস বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবে না।

তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত ব্যাংক থেকে সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করতে পারবে না।

২০০৮ সালে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে রাশিয়ায় ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেই সময় ব্যাংকগুলো তারল্য ঘাটতির মুখোমুখি হয় এবং নগদের বিকল্প উৎস খোঁজা শুরু হয়। আর্থিক সংকট কাটাতে তখন থেকে ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করছিল দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ইসলামি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।

আধুনিক অর্থনীতির এক নতুন অধ্যায় হিসেবে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার এই সম্প্রসারণ রাশিয়ার মুসলিম ও অমুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক কার্যক্রমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।