খেলাজনিত আঘাত ও আর্থ্রাস্কোপিক সার্জারি

অনেক খেলোয়াড়ই খেলতে গিয়ে স্পোর্টস ইনজুরিতে পড়েন।  কেউ কেউ স্পোর্টস ইনজুরির পর  চিকিৎসা নিয়ে আবার খেলায় ফিরে আসতে পারেন। অনেকে খেলায় ফিরলেও আগের মতো খেলতে পারেন না। আবার অনেক খেলোয়াড়কে যথোপযুক্ত চিকিৎসা এবং পরিমিত পরিচর্যার অভাবে খেলোয়াড়ি জীবনের পরিসমাপ্তি টানতে হয়। হাঁটু শরীরের বড় ও ওজন বহনকারী জোড়াগুলোর মধ্যে অন্যতম বিধায় হাঁটু স্পোর্টস ইনজুরিতে আক্রান্ত হয় বেশি।

বুঝবেন কীভাবে

আক্রান্ত ব্যক্তি আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে ‘পপ’ বা ‘ক্র্যাক’ শব্দ শুনতে বা বুঝতে পারবে।

প্রথমে তীব্র ব্যথা, পরে আস্তে আস্তে ব্যথা কমে আসে। ব্যথা হাঁটুর বাইরের পাশে ও পেছনে হবে।

আঘাতের প্রথম দশ মিনিট মধ্যে না ফুললেও বারো থেকে চব্বিশ ঘণ্টা পরও হাঁটু ফুলতে পারে।

পড়ে গেলে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে চেষ্টা করলে মনে হবে হাঁটু ছুটে যাচ্ছে বা বেঁকে যাচ্ছে।

অনেক সময় হাঁটু আটকে যায়, বেশিক্ষণ বসলে রোগী হাঁটুকে নড়াচড়া করিয়ে সোজা করে।

হাঁটু অস্থিতিশীল বা ছুটে বা ঘুরে যাচ্ছে, এ রকম মনে হবে।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

প্রাথমিক চিকিৎসায় রোগীর ব্যথা ও ফুলা সেরে ওঠার পর, হাঁটু পরীক্ষার মাধ্যমে কী কী লিগামেন্ট ইনজুরি হয়েছে এবং এর তীব্রতা নির্ণয় করা যায়। এক্স-রে ও এমআরআইর সাহায্য নিতে হয়। হাঁটুর লিগামেন্ট বিস্তৃত (স্ট্রেস) ইনজুরি ও মেনিসকাসের ক্ষুদ্র ইনজুরি হলে প্রাথমিক চিকিৎসায় ভালো হয়। খেলোয়াড় খেলায় ফিরে যেতে পারে। তবে কিছু কিছু আংশিক টিয়ারের ক্ষেত্রে হাঁটুর পেশির ব্যায়াম ও দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে সুস্থ থাকা এবং নিয়ন্ত্রিত খেলাধুলা করতে পারবে। লিগামেন্টের মধ্যে এনটেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট  তৈরি করা জরুরি, কারণ এটা না করলে হাঁটু অস্থিতিশীল এবং হাঁটুতে তাড়াতাড়ি ওসটিওআর্থ্রাইটিস হয়ে জোড়া নষ্ট হবে। বর্তমানে ছোট দুটি ছিদ্র দিয়ে আর্থ্রোস্কোপ যন্ত্র হাঁটুতে প্রবেশ করিয়ে নতুন লিগামেন্ট তৈরি করা হয়। বড় ধরনের মেনিসকাস ইনজুরি হলে রিপেয়ার করা হয়।

আর্থ্রাস্কোপিক সার্জারির পর নিয়মিত ও পরিমিত পরিচর্যার মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে খেলায় ফিরে যেতে পারবে।