বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল, তবে সেটি অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। গলের প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে দুমড়ে-মুচড়ে মাত্র চার দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ২৪২ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। মাত্র নয় সেশন স্থায়ী হওয়া এই ম্যাচে দুই দলের শক্তির পার্থক্য চোখে পড়ার মতো ছিল।
তৃতীয় দিনের বেশিরভাগ সময় ভেসে যাওয়ার পর চতুর্থ দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল, যা অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয়ের পথে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। তবে প্রকৃতি বাধা হয়নি, বরং স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন দল একদিনেই ১৫ উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে দেয়। ব্যাটিংয়ে যেখানে অস্ট্রেলিয়া তাদের একমাত্র ইনিংসে ১৫৪ ওভার ব্যাট করেছে, সেখানে শ্রীলঙ্কা দুই ইনিংস মিলিয়েও ব্যাট করতে পেরেছে মাত্র ১০৬.৫ ওভার!
নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স না থাকলেও, নতুন রূপে সাজানো অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। স্পিননির্ভর আক্রমণ নিয়ে মাঠে নামা দলটি ধীরগতির উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এশিয়ায় নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ গড়ে। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর স্ট্যান্ড-ইন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়িত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ছিল কার্যকর। অভিষিক্ত জশ ইংলিস মাত্র এক ইনিংসেই দেখালেন তার সামর্থ্য, খেললেন দ্রুতগতির এক সেঞ্চুরি। আর তিন স্পিনার খেলানোর সিদ্ধান্তও সফল হয়েছে। বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথিউ কুহনেমান, যিনি জানুয়ারির মাঝামাঝিতে বিগ ব্যাশ লিগে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন, দ্রুত সেরে উঠে ফিরেই ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করেন।
অস্ট্রেলিয়া নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করলেও, শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ছিল চরমভাবে হতাশাজনক। গলের মাটিতে সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হয়, কিন্তু এবার লঙ্কানরা কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি। সিরিজ বাঁচাতে হলে ফেব্রুয়ারি ৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলটিকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
এই জয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়া ওয়ার্ন-মুরালিধরন ট্রফি ধরে রেখেছে, যা দলটির জন্য একটি বাড়তি প্রাপ্তি।