মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ রাজশাহী ও নাটোর জেলার তিন মেধাবী শিক্ষার্থীকে উপহার হিসেবে বই, কংকাল, আর্থিক ও অন্যান্য শিক্ষাউপকরণ উপহার দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম শনিবার সকালে নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী প্রার্থনা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে মেডিকেলে পড়াশোনার ১ সেট বই, ১ সেট কংকাল, এপ্রোন ও প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।
এরপর দুপুরে রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলায় এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে (বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ) মেধাবী শিক্ষার্থী মো. নীরব আলীর বাড়িতে গিয়ে মেডিকেলে পড়ার জন্য বই, বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণসহ নগদ অর্থ উপহার দেন। সন্ধ্যায় রাজশাহী বাঘা উপজেলায় রংপুর মেডিকেলে উত্তীর্ণ প্রার্থনা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে বই, কংকাল, এপ্রোনসহ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
এ সময় ডা. রফিক বলেন, বিভিন্ন মেডিকেলসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নো পলিটিক্সের নামে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের একটা পাঁয়তারা চলছে। জেন-জি জেনারেশনকে ছাত্র রাজনীতি বিমুখ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক একটি গোষ্ঠী এগুলো করছে। অথচ এই জেন-জিরাই বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মূখ্য চালিকা শক্তি ছিল।
তিনি বলেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচার পতন, কিংবা ২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে ছাত্র রাজনীতির অংশগ্রহণ গড়ে দিয়েছে নতুন অধ্যায়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে লেজুরবৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির নামে যে সন্ত্রাস ছাত্রলীগ কায়েম করেছে তার জুজু দেখিয়ে গৌরবময় ছাত্ররাজনীতিকে বাংলাদেশ থেকে মুছে ফেলার এই ঘৃণ্য প্রয়াস প্রকারন্তরে একটি গুপ্ত সংগঠনকে মৌলবাদী রাজনীতি করার ফ্রি পাস দেওয়ার সামিল। মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলা যেমন সমাধান না তেমনি অতীত সরকারের আমলে ছাত্ররাজনীতির কালো অধ্যায়ের সমাধান ছাত্র রাজনীতিবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। বরং অতীত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনমূলক শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্ররাজনীতি আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।