টাঙ্গাইলের আলোচিত আ. লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার রায় আজ

টাঙ্গাইলে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার রায় আজ।  রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) এই রায় হওয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী খান পরিবার প্রথমবারের মতো বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে। 

এর আগে গত রবিবার টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মাহমুদুল হাসানের আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি)  রায় ঘোষণার দিন ধার্য্য করেন আদালত।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন— খান পরিবারের চার ভাই সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা। 

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। 

২০১৪ সালের আগস্টে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আলোচিত খান পরিবারের চার ভাইয়ের নাম বেরিয়ে আসে।

২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি খান পরিবারের চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মাহফীজুর রহমান। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। 

প্রায় চার দশক ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় হত্যা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠে টাঙ্গাইলের বহুল আলোচিত খান পরিবারের সন্তানদের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সরকারের সময়ে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও কখনো বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি। আলোচিত এই মামলার রায় নিয়ে টাঙ্গাইলে রাজনৈকিত অঙ্গণে চলছে নানা আলোচনা।

ফারুক হত্যা মামলায় আরও ১২ জন আসামি রয়েছেন। এদের মধ্যে বিচার চলাকালে দুই আসামি আনিছুর রহমান ওরফে রাজা ও মোহাম্মদ সমির কারাগারে মারা যান।

নিহত ফারুক আহমেদের বড় ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন জানান, ‘মামলা থেকে তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা এসেছে। আাইন সঠিক পথে চললে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশা করেন তিনি।