কুমিল্লায় যৌথ বাহিনীর হেফাজতে যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় জেলার পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। এতে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ইমেইল ও ডাকযোগে কুমিল্লার পুলিশ সুপার বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. তৌহিদুল ইসলামকে (৪০) তার বাড়ি থেকে আটক করে যৌথবাহিনী। গত শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৌহিদুলের মৃত্যু হয়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অমানবিক নির্যাতনে তৌহিদুল মারা গেছেন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে একটি শিপিং এজেন্টে চাকরি করতেন। গত ২৬ জানুয়ারি তার বাবা মোখলেছুর রহমান মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বাড়িতে আসেন। গত শুক্রবার তার বাবার কুলখানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগে আইনজীবী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সংগঠিত এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই অভিযোগ দায়ের করলাম।
অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর পর এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। সরকার থেকে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। আইএসপিআর থেকে বলা হয়েছে দায়ীদের সেনা আইনে বিচার হবে। কিন্তু তদন্ত ও বিচারের জন্য আগে তো মামলা হতে হবে। কারা এর সঙ্গে জড়িত, কেন ও কিভাবে এ ঘটনা ঘটলো তা তো জানতে হবে। মামলা না হলে কিসের ভিত্তিতে তদন্ত ও বিচার হবে?।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় বিচারের জন্য নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন রয়েছে। যাতে তদন্তের পর দায়রা আদালত বিচার হয়। এই আইনে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে এ অভিযোগ করা হয়েছে।’