জবিতে সরস্বতী পূজার বরাদ্দ কমলেও কমতি নেই উৎসবের

প্রতিবছরের মতো এবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে চলছে জোর প্রস্তুতি। কিন্তু পূর্বের তুলনায় কমেছে পূজার বাজেটের পরিমাণ।

জানা যায়, গত বছরে প্রত্যেক বিভাগ ১৫ হাজার করে বাজেট পেলেও এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট সংকটের কারণে ৫ হাজার করে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে সংকট কাটিয়েও পূজা আয়োজনে ঘাটতি রাখেনি বিভাগগুলো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩টি বিভাগ, ২টি ইনস্টিটিউট ও চারুকলা অনুষদে ১টি ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলসহ মোট ৩৭টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর, শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলা, বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর, কলা ভবন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে একেক বিভাগের মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। এসব মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা সহ নানান রকমের আলপনা আঁকা হচ্ছে। 

মণ্ডপ তৈরি ও সাজসজ্জায় গত কয়েকদিন ধরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মের অনুসারী শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি কাজ করছেন তারা।কিন্তু শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের  হতাশা লক্ষ্য করা যায়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৬ ব্যাচের সনাতনী শিক্ষার্থী বর্ণালি সাহা বলেন,"বাজেট এবার কম,কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে বলছিলো কেন্দ্রীয় ভাবে করতে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি ডিপার্টমেন্ট অনুযায়ী হবে পূজা। এই জন্যই হয়তো বাজেট কম করে দিছে। পুরো পূজার খরচ আমরা নিজেরা সংগ্রহ করেছি। 

জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী অভিযান বলেন, পূর্বের তুলনায় এই বার আমাদেরকে পূজার বাজেট কমই দেওয়া হয়েছে, তা—ও কাজ চলছে ঠিকঠাক।

বাজেট কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে এবারের পূজার বাজেটই কম হয়েছে।

চারুকলা বিভাগের  ১৫ ব্যাচের বিদিসা বলেন, আমরা প্রতিবারের মতো এবারও পূজার আয়োজন করছি সবাই মিলে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের বাজেটে কমপক্ষে ১০ হাজার করে টাকা বরাদ্দ হবে, সেই অনুযায়ী সব কিছু প্ল্যানও করা হয়েছিল। কিন্তু এবার ৫ হাজার টাকা বাজেট হওয়ায় আমাদের প্ল্যান পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং কম বাজেটের জন্য কাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, আমরা উপাচার্য স্যারের কাছে একটি বাজেট নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্যার বলেছেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে সেই পরিমাণ টাকা বরাদ্দ নেই। সব কিছুর দাম বেড়েছে আমারা সেই অনুযায়ীই বরাদ্দ ধার্য করেছিলাম। কিন্তু গতবছরের তুলনায় অর্ধেক বরাদ্দ এসেছে। তবুও পূজার কাজে কোনো কিছুর কমতি নেই। শিক্ষার্থীরা চাঁদা দেয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করে। এবারও উৎসবমুখরভাবে উদযাপন করা হবে সরস্বতী পূজা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, ‘পূজার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই, সেই হিসাবে পূজার জন্য এবার কত বরাদ্দ হবে তারও কোনো পরিমাপ নেই। 

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতবারের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশি মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার কমতি রাখবো না। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এবার নিজেদের নিরাপত্তার কাজে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘পূজার জন্য আলাদা বরাদ্দ আসে না। সনাতনী শিক্ষার্থীদের পূজার জন্য সেখান থেকেই বরাদ্দ করা হয়। বাজেট কমার কারণ হলো আমাদের অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের কথা ও ভাবা লাগে। সেভাবেই বরাদ্দ নির্ধারণ করতে হয়।