ওয়াংখেড়েতে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি অভিষেকের

মাত্র ৩৭ বলে টি-টোয়েন্টি শতরান! মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা। অল্পের জন্য ভেঙে গেল না রোহিত শর্মার দ্রুততম শতকের রেকর্ড। ভারতের হিটম্যান ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে শতরান করেছিলেন, অভিষেকের লেগে গেল দুই বল বেশি।

টি-টোয়েন্টিতে এটি অভিষেকের দ্বিতীয় শতক। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৭ বলে ১০০ রান করেছিলেন পাঞ্জাবের এই ব্যাটার। সিরিজের প্রথম ম্যাচে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ৭৭ রানের ইনিংস খেললেও পরের তিন ম্যাচে রান পাননি তিনি। তবে শেষ ম্যাচে এসে রঙিন হয়ে উঠল অভিষেকের ব্যাট।

ওয়াংখেড়েতে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন অভিষেক। বিশেষ করে ইংলিশ পেসারদের বিপক্ষে ছিলেন বিধ্বংসী। একের পর এক বড় শট খেলে বিপদে ফেলেন জস বাটলারের দলকে। মাত্র ১৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি! এরপরও থামেননি, বরং ফিল্ডিং ছড়িয়ে যাওয়ার পরও একই ছন্দে খেলে গেছেন।

এই ম্যাচে ছক্কা হাঁকানোর সময় পেশির শক্তির চেয়ে টাইমিংয়ের উপর ভরসা রেখেছেন অভিষেক। ফলে তার শটগুলো ছিল দৃষ্টিনন্দন। একসময় মনে হচ্ছিল, হয়তো রোহিত শর্মার রেকর্ডই ভেঙে ফেলবেন। তবে ৩০ বলের পর কয়েকটি বল ডট খেলে ফেলেন, ফলে শতক ছুঁতে দু’বল বেশি লেগে যায়।

শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছান অভিষেক। তার এই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১০টি ছক্কা। উইকেটের সামনে বেশি ছক্কা হাঁকানো অভিষেকের ব্যাটিং পরিকল্পনা স্পষ্ট—টাইমিং ও শট সিলেকশনের উপর জোর দেওয়া। তার ইনিংসের বড় দিক হলো, আগের ম্যাচগুলোর মতো এবার উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেননি তিনি। বরং ইনিংস বড় করেই মাঠ ছেড়েছেন।

নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও অভিষেকের ব্যাটিং ভরপুর বিনোদন এনে দিয়েছে দর্শকদের জন্য। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে তার জায়গা পাকাপোক্ত করার ক্ষেত্রে এই ইনিংস যে বড় ভূমিকা রাখবে, তা বলাই বাহুল্য!