মায়ের পরকীয়ায় বাধা, ছেলেকে ইঁদুরের বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল এলাকায় মায়ের পরকীয়ার সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় মায়ের পরামর্শেই কৌশলে ইঁদুরের বিষ খাওয়ায়ে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ছেলে সোলেমন হোসেন ওরফে সম্রাটের (১৭) লাশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মা স্বপ্না বেগম ও প্রেমিক আমির আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গ্রেপ্তার স্বপ্না খাতুন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার বাইগুনি গ্রামের আব্দুল হামিদ প্রামাণিকের মেয়ে। বর্তমানে পূবাইল থানার ৪০নং ওয়ার্ডের কুদাব এলাকায় রিনা আক্তারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। এ ছাড়া আমির আলী পূবাইল থানার সাতপোয়া এলাকার মো. জামির উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশের জানায়, দুই সন্তানের জননী স্বপ্না খাতুনের স্বামী জাকির হোসেনের সঙ্গে পারিবারিক কলহের জের ধরে আলাদাভাবে বসবাস করছিলেন। সেই সুযোগে স্থানীয় বাসিন্দা আমির আলীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে স্বপ্নার। বিষয়টি তার বড় ছেলে সোলেমান হোসেনের নজরে আসলে সে বিভিন্নভাবে তাদের বাধা সৃষ্টি করে। বেশ কয়েকবার বাধা সৃষ্টি করায় মায়ের পরামর্শে তার প্রেমিক আমির আলী শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সোলেমান হোসেনকে ফোন করে পূবাইল করমতলা রেললাইনের পাশে ডেকে নেয়। এ সময়ে সোলেমানকে কৌশলে পানিতে ইঁদুরের ওষুধ মিশিয়ে খেতে দেয়। ইঁদুরের ওষুধ মিশ্রিত পানি খেয়ে সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে আমির আলী রেললাইনের পাশে সুলতানের মাছ চাষের পুকুরে লাশ ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

শনিবার সকালে ওই পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। ওই দিনই এ ঘটনায় নিহতের ফুফা টিপু সুলতান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ নিহতের মা স্বপ্না খাতুন ও আমির আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা পুরো হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেন।

গাজীপুর মেট্রোপলি পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিরুল ইসলাম জানান, রোববার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।