আগামী সপ্তাহের শুরুতে দেশের কয়েকটি এলাকায় এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আর পরপরই ধীরে ধীরে বাড়বে গরমের মাত্রা এবং মাসের শেষে যা বজ্রসহ বৃষ্টিতে রূপ নিতে পারে। চলতি মাসের আবহাওয়া নিয়ে এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো প্রতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ ও নিম্নচাপ সৃষ্টির পূর্বাভাস থাকে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের পূর্বাভাসে সেই নিম্নচাপের কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। চলতি মাসের কবে নাগাদ মৃদু শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোরকাস্টিং কর্মকর্তা নাজমুল হক গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) সোমবার ও মঙ্গলবার (কাল) তাপমাত্রা একটু কমতে পারে। এরপরই আবারও বাড়বে। কিন্তু আগামী ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আর এই শৈত্যপ্রবাহের মধ্য দিয়ে শেষ হতে পারে এবারের শীত মৌসুম।’
মাসের শেষের অবস্থা কেমন থাকবে জানতে চাইলে নাজমুল হক আরও বলেন, দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রাও বাড়তে থাকবে। ফলে মাসের শেষের দিকে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
এদিকে গত মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ১০ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হলেও জানুয়ারি মাসে সারা দেশে তাপমাত্রা বেশি ছিল। জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। দেশের গড় তাপমাত্রা বেশি ছিল শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এর মাধ্যমে গত ১৬ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এবারের শীতে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। এর পর থেকে জানুয়ারিতে তাপমাত্রার পারদ আর বাড়েনি, ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি সৈয়দপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। কিন্তু দেশের শীতলতম মাস খ্যাত জানুয়ারি ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে।