দীর্ঘ এক দশকের টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চলেছেন দিমুথ করুনারত্নে। গলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টই হবে এই বাঁহাতি ওপেনারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শততম টেস্ট খেলেই শ্রীলঙ্কার জার্সি তুলে রাখবেন সাবেক এই অধিনায়ক।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে গত দশকের অন্যতম সেরা ব্যাটার ছিলেন করুনারত্নে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটে রান নেই, সর্বশেষ সাত টেস্টে করেছেন মাত্র ১৮২ রান। বয়স ও পারফরম্যান্সের কথা মাথায় রেখে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই ওপেনার।
ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করুনারত্নে বলেছেন, ‘পরের টেস্টই আমার শেষ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পরই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। পরবর্তী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বেশ কয়েকজন তরুণ দলে আসতে পারে। তাই এখনই সরে যাওয়াই ভালো।’
শ্রীলঙ্কার পরবর্তী টেস্ট ম্যাচ ২০২৬ সালের মে মাসে, অর্থাৎ দুই বছরেরও বেশি সময় পর। এমন লম্বা বিরতির পর খেলতে না পারার শঙ্কা এবং তরুণদের জায়গা করে দিতেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার হয়ে টেস্টে ৭১৭২ রান করেছেন করুনারত্নে। আছে ১৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৬টি হাফ-সেঞ্চুরি। ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে গলে করা ২৪৪ রানের ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ।
গত ১০ বছরে টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন করুনারত্নে। ২০১৫ সালের পর থেকে ওপেনার হিসেবে তাঁর সংগ্রহ ৬২২৬ রান, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেভিড ওয়ার্নারের রান ৬০০০-এর নিচে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলকে পৌঁছানো মাত্র সপ্তম ক্রিকেটার হতে চলেছেন করুনারত্নে। এর আগে সনাৎ জয়াসুরিয়া, মুত্তিয়া মুরালিধরন, চামিন্ডা ভাস, মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস এই কীর্তি গড়েছেন।
২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার টেস্ট নেতৃত্ব দিয়েছেন করুনারত্নে। এই সময়ে দলকে ৩০ টেস্টে নেতৃত্ব দেন, যেখানে কয়েকটি স্মরণীয় জয় এসেছে তাঁর নেতৃত্বে।
ওয়ানডে ক্রিকেটেও শ্রীলঙ্কার হয়ে ৫০টি ম্যাচ খেলেছেন করুনারত্নে। ২০১৯ বিশ্বকাপে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন, যেখানে তাঁর অধীনেই শ্রীলঙ্কা স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ২০১২ সালে গলেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল করুনারত্নের। ক্যারিয়ারের শততম টেস্টও হবে গলে, যেখানে নামার পরই শেষবারের মতো লঙ্কান জার্সিতে দেখা যাবে এই ওপেনারকে।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে দিমুথ করুনারত্নে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন—একজন নির্ভরযোগ্য ওপেনার, সফল অধিনায়ক ও নিঃসন্দেহে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার।