স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত ও আধুনিক গানে পরিচিত নাম শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। সম্প্রতি বেরিয়েছে তার লেখা চারটি গানের অ্যালবাম ‘চিনি দেড় চামচ’। ঊনষাটের দুয়ারে থাকা বর্ষীয়ান এই গীতিকবির সঙ্গে কথা বলেছেন নাজমুস সাকিব রহমান
সম্প্রতি ‘চিনি দেড় চামচ’ বেরোল। পিলু খান আগেও আপনার কথায় সুর দিয়েছে। কণ্ঠে এলিটা করিম। কেমন অভিজ্ঞতা হলো?
শহীদ মাহমুদ জঙ্গী : সাধারণত এক প্রজন্ম যখন আরেক প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করে উভয়ের মধ্যে ভালো লাগা কাজ করে। পিলুর সঙ্গে অনেক দিন ধরে কাজ করছি। সে ভালো সুর করে। এই অ্যালবামে চারটা গান আছে। দুটো ইউটিউবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। শিরোনামে গানটায় একগুঁয়ে একজন মানুষকে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ‘প্রেম হবে দিন শেষে’ গানে মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে।
আর এলিটা?
শহীদ মাহমুদ জঙ্গী : প্রজন্মের বিষয়টা আলাদা করে রাখছি। আধুনিক গান প্রথমে আধুনিক হওয়া জরুরি। সেটা লেখায় যেমন, কণ্ঠেও। এদিক থেকে এলিটার সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে। সে যতœ নিয়ে গেয়েছে। গানগুলো তৈরি হয়েছে অনেকটা ব্যান্ডের মতোই। আমি, পিলু বা এলিটা সবাই ব্যান্ড হয়ে এসেছি বা সেভাবে কাজ করতেই অভ্যস্ত।
এবার বইমেলায় আপনার ‘নীলাম্বরি শাড়ি পরে’ নতুন করে আসছে।
শহীদ মাহমুদ জঙ্গী : পত্রিকায় লিখতে গিয়ে বই করার বিষয়টা শুরু হয়। আগে থেকেই বাংলা গানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখতাম। বিশেষ করে পঞ্চকবি নিয়ে। ‘নীলাম্বরি শাড়ি পরে’ তিন বছর আগে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল। এবার প্রচ্ছদ বদলে গেছে। এ ছাড়া আরেকটা বই লেখার ইচ্ছা আছে। গ্রামোফোন থেকে ক্যাসেট পর্যন্ত ১০০ বছরের পরিবর্তনটা সেখানে উঠে আসবে।
বাংলা গানের বর্তমান প্রবণতা কোন দিকে যাচ্ছে? ভাষার জগাখিচুড়ি, মুখের ভাষা, ইনফ্লুয়েন্স নানা কিছু ঢুকে পড়ছে গানে।
শহীদ মাহমুদ জঙ্গী : এটা হচ্ছে ফ্যাশনের মতো। কাজেই এসব হবে। তবে নিরীক্ষা চালাতে হবে। বুঝতে হবে কোন পথে যাচ্ছি। রবীন্দ্রনাথ নতুন ধারা শুরু করেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামও। সে সময় একদম নতুন ধরনের লেখা ও সংগীত নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। পরে শচীন দেব বর্মণ, সলিল চৌধুরীও। কেউ যদি নতুন কিছু শুরু করতে পারে আর সেটা যদি টিকে যায়, তাহলে বড় একটা কাজ হয়। আমাদের সময় আমরাও চেয়েছি। সিনিয়ররা পছন্দ করেনি। এখনো করবে না, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কারও নতুন কিছু করার ইচ্ছে সে তা-ই করুক। ভালো কাজ হলে সবাই ভালো বলবে।
বাংলাদেশে একটা কর্র্তৃত্ববাদী সরকারের উৎখাত হয়েছে। আপনার ‘তৃতীয় বিশ্ব’, ‘হে বাংলাদেশ’ বা ‘চায়ের কাপে’র মতো লেখায় এমন নানা বিষয় এসেছে।
শহীদ মাহমুদ জঙ্গী : আমি কাজের মাধ্যমে আমার কথা বলার চেষ্টা করেছি। দেশে গণতন্ত্র- মৌলিক অধিকার থাকলে এমন আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান হতো না। মানুষকে ভোটাধিকার দিতে হবে। বাক্স্বাধীনতা দিতে হবে। তার মৌলিক অধিকারটুকু যেন বুঝে পায় সেটাও দেখতে হবে। কোনো প্রাণহানিই গ্রহণযোগ্য নয়। যারাই সরকারে আসুক তাদের নাগরিকের খেয়াল রাখতে হবে। ভোটের মাধ্যমে বিদায় দিতে পারলে তো এতগুলো ছেলেমেয়ের জীবন যেত না। জুলাইয়ে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আমি ফেসবুকে লিখেছি হত্যাকাণ্ড বন্ধ করো, সকল হত্যার বিচার চাই। আমি তখন আমেরিকায়, হাসপাতালে। পরে আগস্টেও লিখেছি ‘বিশ্বাস করি প্রাণের চেয়ে বড় কিছু নাই/
প্রাণের কাছে তাই বারবার ফিরে ফিরে যাই/ চিৎকার করি মানুষের জন্য/ চিৎকার করি জীবনের জন্য’। আমি আমার মতো করে বলার চেষ্টা করেছি।