হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট একটি নতুন চিকিৎসা সংযোজন। যাদের Donor Area  অর্থাৎ মাথার পেছন ও সাইডে চুল খুবই কম থাকে, তাদের জন্য হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট একটি স্থায়ী সমাধান। যাদের Donor Area  অর্থাৎ মাথার পেছন ও সাইডে চুল খুবই কম থাকে, ফলে মাথার পেছন ও সাইড থেকে চুল আনা সম্ভব হয় না; তাদের ক্ষেত্রে বুক, দাড়ি ও বডির অন্যান্য জায়গা থেকে ঋটঊ (FUE (Follicular Unit Extraction) পদ্ধতিতে ১টি করে চুল গোড়াসহ এনে টাক জায়গায় স্কিন ছিদ্র করে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এই পদ্ধতিকে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলে।

কীভাবে চুল প্রতিস্থাপন করবেন : এফইউটি পদ্ধতিতে মাথার পেছন থেকে চওড়ায় প্রায় আধা ইঞ্চি পরিমাণ চামড়া কেটে তুলে আনা হয়। সেখান থেকে ফলিকল কেটে বের করে লাগানো হয় মাথার সামনের অংশে। এ পদ্ধতি তুলনামূলক জটিল।

এফইউই পদ্ধতিতে একটি মাইক্রোমোটর দিয়ে ডোনার এরিয়া থেকে প্রতিটি চুলকে আলাদা করে তুলে আনা হয়। পরে সামনের অংশে আবার লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন পড়ে না।

ডিএইচআই চুল প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে হ্যান্ড পাঞ্চ ব্যবহার করে প্রতিটি চুল হাত দিয়ে তোলা হয়। এতে জটিলতা কম।

কারা করতে পারেন : বয়স ২৫-৩০ না হতেই বংশগত বা হরমোনের কারণে যারা টাকের সমস্যায় পড়ে যান। মেনোপজের পর নারীদের মধ্যে যাদের টাক পড়ে। দুর্ঘটনার কারণে যারা চুল হারিয়ে ফেলেন। অর্থাৎ সেসব ক্ষেত্রে নতুন করে চুল গজানো প্রায় অসম্ভব।

কেন করবেন : প্রতিস্থাপিত চুল কিছুদিন পর ঝরে গিয়ে আবার গজাতে শুরু করে। চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে এই চুল গজানো শুরু হয়। সে হিসাবে আপনি এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে চুল প্রতিস্থাপনের সুবিধাগুলো পেতে শুরু করবেন। চুল প্রতিস্থাপনের পর বিশেষ কোনো যত্নের প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি ফলোআপেরও তেমন দরকার নেই। প্রতিস্থাপিত চুল কেটে ছোট করা, রিবন্ডিং বা কার্ল করতেও কোনো সমস্যা হয় না। শুধু মাথা নয়, ভ্রু, গোঁফ ও দাড়িতেও চুল প্রতিস্থাপন করা যায়। ১০ ঘণ্টায় ১০০০ চুল লাগানো যায় বা দিনে সর্বোচ্চ ১০০০ চুল লাগানো সম্ভব।  সেলাই করতে হয় না, খুব অল্প ব্যথা ও কোনো দাগ থাকে না। ছোট এরিয়ায় ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য এই পদ্ধতি খুবই উপযোগী।