প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আমন্ত্রণে সেখানে অভিভাষণ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। গত মঙ্গলবার ব্রিগিডেয়ার জেনারেল ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের বাংলাদেশি ও বিদেশি সামরিক কর্মকর্তা এবং যুগ্ম সচিব ও ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের বেসামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পরিচালিত কোর্সে রিসোর্স পারসন হিসেবে এ অভিভাষণ দেন তিনি। অভিভাষণ শেষে প্রধান বিচারপতি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহিনুল হক এর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান বিচারপতি তার অভিভাষণে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে কোর্সে অংশগ্রহণকারী উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা প্রদান করেন। তিনি বক্তব্যে এই ভূ-খণ্ডে আইন ও বিচার ব্যবস্থার উদ্ভব ও বিকাশ, আইনের বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিষয়, বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থাপনা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে বিচার বিভাগের ভূমিকা, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব, সামাজিক  ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দেশের উচ্চ আদালতের জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তার ঘোষিত বিচার বিভাগ সংক্রান্ত রোডম্যাপের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি। মাত্র ৪ (চার) মাস সময়ের মধ্যে ওই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের যে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কোর্সে অংশগ্রহণকারী উচ্চ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা প্রদান করেন। বিশেষ করে,  উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনয়নে তার উদ্যোগে প্রণীত জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে মেধাভিত্তিক নিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে সবাইকে অবহিত করেন তিনি। এ ছাড়া, বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সক্রিয় রয়েছে মর্মে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিচার বিভাগে কার্যকর পৃথকীকরণে ও বিচার সেবা সহজীকরণ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি বদ্ধ পরিকর বলে জানান প্রধান বিচারপতি।