কানে প্রচন্ড ব্যথা, রাতভর কান্নাকাটি এবং পরে কান থেকে পুঁজ জাতীয় তরল পদার্থ বের হওয়া এই হলো কান পাকার প্রধান লক্ষণ। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের কানের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। মূলত ৬ মাস থেকে দুই বছর বয়সের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি থাকে। কানের সংক্রমণ একাধিকবারও হতে পারে এবং পরবর্তী সময় সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে কানে শুনতে অসুবিধা দেখতে পাওয়া যায়।
কারণ
ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ হতে পারে,
নাকের পেছনে থাকা এডিনয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যেতে পারে,
গলার টনসিলে বারবার সংক্রমণ হওয়া,
শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা,
পারিপাশির্^ক পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নহীনতা, পুষ্টির অভাব, ধূমপানের ধোঁয়া,
যেসব শিশু শুয়ে থাকা অবস্থায় দুধ পান করে,
জন্মগত মুখ গহ্বরে তালু ফাটা।
লক্ষণ
কানে ব্যথা, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কান্না, ঘুমের সমস্যা, ক্ষুধামান্দ্য, জ¦র, কানের পর্দা ফেটে পুঁজ পড়া, হাল্কা কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, কানে ভার ভার লাগা, শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাওয়া।
চিকিৎসা
কান পরিষ্কার রাখা।
প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক কমপক্ষে ১০ দিন ব্যবহার করা। পাশাপাশি কানের ড্রপ ব্যবহার করা ব্যথানাশক প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন। নাক পরিষ্কার রাখার জন্য নাকের ড্রপ। প্রয়োজনে মাইরিঙ্গোটমি, এডিনয়েডেকটমি লাগতে পারেন।
জটিলতা
শিশুদের মনোযোগহীনতা, লেখাপড়া করতে আগ্রহী কমে যাওয়া,
মেনিনজাইটিস (মস্তিস্কে সংক্রমণ), স্নায়ুতন্ত্রে পুঁজ জমে যাওয়া,
মাস্টয়েডাইটিস (কানের পেছনের হাড়ে সংক্রমণ),
ফেসিয়াল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া,
শ্রবণ ক্ষমতার হ্রাস, সঙ্গে কথা বলতে দেরি হওয়া,
শারীরিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হওয়া।