অবৈধ অভিবাসীদের ‘হাতে হাতকড়া, পায়ে বেড়ি’ নতুন নয়: জয়শঙ্কর

হাতে হাতকড়া, পায়ে বেড়ি পরিয়ে অবৈধ ২০৫ জন ভারতীয় অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এই নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতের রাজ্যসভার বিরোধীরা।

তবে বিরোধীদের প্রতিবাদে কর্ণপাত না করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই সাফাই গাইলেন। এদিন রাজ‍্যসভায় জয়শঙ্কর বলেন, অতীতেও এমন হয়েছে, ‘এটা কোনো নতুন ঘটনা নয়।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শিকল বেঁধে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন সরকার যে অমানবিক আচরণ করেছে, তা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার কার্যত কোনো প্রতিবাদ জানায়নি বলে অভিযো বিরোধীদের।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি দাবি করলেন, অতীতেও আমেরিকা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে ফেরানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ২০০৯ সাল থেকে তথ্য পেশ করেছেন। তিনি চাইলে আরও অনেক দিনের পরিসংখ্যান দিতে পারতেন। আর ২০১২ সালে ভারতীয়দের শিকল বেঁধে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের তরফে প্রতিবাদ জানানোর কোনো রেকর্ড নেই।

এর আগে গতকাল প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ফেরত ১০৪ অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে সংসদে মুখ খোলেন জয়শঙ্কর। বুধবার ওই ১০৪ জনকে নিয়ে অমৃতসরে নামে মার্কিন বিমানবাহিনীর সি-১৭ বিমান। তাদের মধ্যে অনেকেই দাবি করেছেন, পুরো বিমানে তাদের হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছিল। চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল পা। অমৃতসরে নামার পরেই সেইসব খোলা হয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, পায়ে বেড়ি বেঁধে ভারতীয়দের বিমানে তোলা হচ্ছে। হাতে হাতকড়া ছিল। 

ফেরত ভারতীয়দের অভিযোগ, এটি শুধু বিমানে নয়, একইরকমভাবে তাদের বাসেও তোলা হয়েছিল। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। অমৃতসরে অবতরণের পরই তারা জানতে পারেন যে কোথায় এসেছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিবৃতি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে যত না বেশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলে মনে হচ্ছিল, তার থেকে বেশি (ডোনাল্ড) ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে কৈফিয়ত প্রদানকারী মনে হচ্ছিল। দুঃখজনক যে এমন ঘটনার সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিতে একটি শব্দও ছিল না। সেটার নিন্দা করা উচিত ছিল সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।’

যুক্তরাষ্ট্রে কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে ভারত

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, সেই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে সেই ঘটনা নিয়ে।