একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে যে নামটি জ্বলজ্বল করবে চিরকাল, সেই তামিম ইকবাল শেষবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। বিপিএলের মাঝপথেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন, এবার সত্যিই থামছেন তিনি। ফাইনালের দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজন করল তার জন্য এক আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনা।
ফাইনালের আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় বিশেষ বিদায়ী অনুষ্ঠান। বড় পর্দায় দেখানো হয় তামিমের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের উপর নির্মিত একটি ভিডিও, যেখানে তাকে নিয়ে কথা বলেন জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা। তরুণ ক্রিকেটার জাকির হাসান, তানজিম সাকিব ও ইয়াসির রাব্বি শেয়ার করেন তামিমের সঙ্গে তাদের স্মৃতির কথা। ক্যামেরার সামনে ছিলেন তার একসময়ের সতীর্থ ও বর্তমান কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও।
এরপর পোডিয়ামে ডাকা হয় তামিমকে। সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘদিনের দুই সতীর্থ মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পাশে ছিলেন স্ত্রী ও দুই সন্তানও। বিসিবির পক্ষ থেকে তাকে উপহার দেওয়া হয় বিশেষ স্মারক জার্সি, যাতে লেখা ছিল তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান। দেওয়া হয় একটি ক্রেস্টও।
২০০৭ সালে অভিষেক হওয়া তামিম ইকবাল বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে খেলেছেন ৩৮৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ব্যাট হাতে ৪৪৮ ইনিংসে সংগ্রহ করেছেন ১৫,১৯২ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৫টি সেঞ্চুরি ও ৯৪টি ফিফটি করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে পরিচিত তামিম টেস্ট ও ওয়ানডেতে গড়েছেন একাধিক রেকর্ড। দেশের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও, দেশের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকছেন না তামিম। ঘরোয়া ক্রিকেট ও বিপিএলে তার ব্যাট এখনও কথা বলবে। হয়তো একদিন বাংলাদেশের ক্রিকেটেও নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে।
কিন্তু যেখানেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে নাম থাকবে তামিম ইকবালের, অমলিন ও অবিস্মরণীয়!