আমতলী

বাস কাউন্টার দখল নিয়ে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৬

বরগুনার আমতলীতে বাস কাউন্টার দখল নিয়ে উপজেলা যুবদল ও পৌর বিএনপির সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ১১ জনকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল শেবাচিমে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তা এলাকার বাসস্ট্যান্ডে এ সংঘর্ষ হয়।

জানা গেছে, গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আমতলী পৌরসভার বটতলা বাসস্ট্যান্ডের ইউনিক কাউন্টার দখল নিয়ে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কবির ফকির ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সামসুল হক চৌকিদারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

সামসুল হক চৌকিদারের দাবি তার নামে ইউনিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। কবির ফকিরের দাবি, তার নামে ইউনিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু কেউ লিখিত কাউন্টার পরিচালনার কাগজ দেখাতে পারেনি। দু’জনে কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার দাবি করলেও গত চারমাস ধরে কবির ফকির পরিচালনা করেছেন। 

এদিকে গত ২৭ জানুয়ারি ইউনিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ সামসুল হক চৌকিদারকে লিখিত কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। এরপর থেকে সামসুল হক চৌকিদার কাউন্টার বুঝে নিতে চাইলেও কবির ফকির তা দেয়নি এমন অভিযোগ সামসুল হক চৌকিদারের। এ কাউন্টার দখল নিয়ে শুক্রবার রাতে আমতলী থানায় বৈঠক হয় কিন্তু পুলিশ সমাধান করতে পারেনি। 
শনিবার সকালে সামসুল হক চৌকিদারের লোকজন কাউন্টার দখল করতে যায়। এ সময় কবির ফকিরের চাচাতো ভাই উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল ফকিরের দুই ছেলে ফরহাদ ফকির ও রাহাত ফকিরের নেতৃত্বে তার লোকজন এসে বাঁধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার জেরে ওইদিন দুপুরে সামসুল হক চৌকিদার ও কবির ফকিরের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

আমতলী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোয়েব ইসলাম হেলাল বলেন, আমার ভাই বেল্লাল চৌকিদার কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাহাত ফকির ও ফরহাদ ফকিরসহ তার সহযোগীরা হামলা করে ৮ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আমার ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে।  

আমতলী উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল হক চৌকিদার বলেন, ইউনিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ গত ২৭ জানুয়ারি আমাকে লিখিত কাউন্টার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু করিব ফকির কাউন্টার জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। আমি এ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছি। পুলিশ চেষ্টা করেও কবির ফকিরকে মানাতে পারেনি। শনিবার আমি কাউন্টারে গেলে কবির ফকিরের লোকজন আমার লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। এতে আমিসহ ১০ জন আহত হয়।

আমতলী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কবির ফকির বলেন, আমার কাউন্টার সামসুল হক চৌকিদার ও তার লোকজন দখলে করতে যায়। এতে আমার লোকজন বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সামসুল হক চৌকিদার ও তার লোকজন আমার দুই ভাইয়ের ছেলেসহ ৭ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে। 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাসেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, আহত ৭ জনকে চিকিৎসা দিয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।