ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বৈঠকে উঠতে পারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। দ্বিতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্টের পদে বসার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এই প্রথম বৈঠক করতে চলেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে ট্রাম্প-মোদির বৈঠকে।

অবশ্য মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে বাংলাদেশের বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। গত শুক্রবার দিল্লিতে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন আভাস দেন। তবে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা স্পষ্ট করেননি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ আসতে পারি কি না? জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘আমি এ মুহূর্তে আগে থেকে পূর্বাভাস দিতে পারি না। তবে সেখানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং আমার ধারণা, যেসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে, সেগুলোর অন্যতম একটি এটা।’

বিক্রম মিশ্রি জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথের তিন সপ্তাহের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা দুদেশের সুসম্পর্কেরই প্রতিফলন। দুদিনব্যাপী এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনা হবে। বিক্রম মিশ্রি আশা প্রকাশ করেছেন, মোদির এই সফরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

এদিকে, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো না হলে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ওপর হুমকি আসতে পারে বলে যে কথা উঠেছে, সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব যে দেশে সেটা থাকে সেই দেশের। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত।’

দুদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারত এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় মিত্র। ভূ-রাজনৈতিক কারণে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। আর দিল্লি-ওয়াশিংটনের শীর্ষ পর্যায়ের যেকোনো বৈঠকেই বাংলাদেশের বিষয় আলোচনায় আসে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ছয় মাস ধরেই ভারত নানাভাবে কথা বলে আসছে। বিশেষ করে ভারতে থেকে শেখ হাসিনার অনলাইনে বক্তব্য প্রদান, রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমালোচনার মুখে রয়েছে দিল্লি সরকার। আবার গত ৫-৬ ফেব্রুয়ারি ধানম-ির ৩২ নম্বরের শেখ মুজিবের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পরই ভারত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আবার শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে দিল্লির কূটনীতিককে কড়া বার্তা দিয়েছে। পরে দিল্লিও সেখানে ঢাকার কূটনীতিককে তলব করে বার্তা দিয়েছে। এ ছাড়া গত ছয় মাসে একাধিকবার ঢাকা-দিল্লি পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক বার্তার ঘটনা ঘটেছে।

শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতকে নিয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে মন্তব্যের এক দিন পর শুক্রবার দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকেও তলব করে দিল্লি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেখ হাসিনা নিজ দায়িত্বে ভাষণ দিয়েছেন, এর সঙ্গে ভারতের অবস্থান মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই।