মারা গেছেন নামিবিয়ার প্রতিষ্ঠাতা স্যাম নুজোমা

বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নামিবিয়ার স্বাধীনতা লাভের বিপ্লবী নেতা ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট স্যাম নুজোমা মারা গেছেন। তিন সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী উইন্ডহোকে ৯৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান। নামিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নাঙ্গোলো এমবুমবা রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন। খবর বিবিসির

এক ফেসবুক পোস্টে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘নামিবিয়া প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেছে। তার মৃত্যুতে ‘জাতীয় শোক’ পালন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

নুজোমা তার জন্মভূমিতে একজন ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানিত। জার্মানির দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধের পর তিনি দেশকে গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার দিকে পরিচালিত করেছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা, জিম্বাবুয়ের রবার্ট মুগাবে, জাম্বিয়ার কেনেথ কাউন্ডা এবং মোজাম্বিকের সামোরা মাচেলের সময়কার আফ্রিকান নেতাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশেষ প্রজন্ম।

নুজোমা দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা পিপলস অর্গানাইজেশনের (সোয়াপো) প্রধান ছিলেন। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন দলটির। স্বাধীনতার পর ১৯৯০ সালে নামিবিয়ার প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সোয়াপো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন এবং নুজোমা দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। 

নুজোমা ১৯৯৪ এবং ১৯৯৯ সালে আরও দুটি মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৫ সালে যখন তিনি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সোয়াপো ক্ষমতায় থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর দুই বছর পর ২০০৭ সালে ৭৮ বছর বয়সে নুজোমা দল থেকেও পদত্যাগ করেন।

জাতিগত ও ভাষাগত সম্প্রদায়ের ৩০ লাখ মানুষের একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতা নুজোমার অনেক প্রশংসা অর্জন করেছিল। তার বিশাল কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ নামিবিয়ার সংসদ ২০০৫ সালে তাকে ‘নামিবিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জনক’-এর আনুষ্ঠানিক মর্যাদা প্রদান করে। লেনিন শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার এবং হো চি মিন শান্তি পুরস্কারের মতো অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন তিনি।