বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যকে ‘অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম। গতকাল রবিবার আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
মুখপাত্র বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী (ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা) ভারতে অবস্থান করে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করছেন, যেটা বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছে না। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তার বক্তব্য কেন্দ্র করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে অবস্থান পরিষ্কার করেছে। এ নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি মন্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের নজরে এসেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বক্তব্য প্রদান অপ্রত্যাশিত এবং অনাকাক্সিক্ষত।’
কাল দুবাই যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে দুবাই যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, ১১-১৩ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিট-২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের আমির শাইখ মুহাম্মাদ বিন রাশিদ আল মাখতুম গত ১৩ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা এ সম্মেলন অংশগ্রহণ করবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন।
রফিকুল আলম বলেন, এবারের সম্মেলন সরকারগুলোর মধ্যে কার্যকরী অংশীদারত্ব ও বৈশ্বিক মতবিনিময় এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার ও জনগণের মধ্যকার সেতুবন্ধ সৃষ্টিতে প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। প্রধান উপদেষ্টার সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তার চিন্তা এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এ সফরকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশ বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে সুসম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন রাজনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এ সম্পর্ক ক্রমশ সুসংহত হয়েছে। দেশটিতে বসবাসরত বড়সংখ্যক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
কঙ্গোতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে আছেন : মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, কঙ্গোতে বাংলাদেশ পুলিশসহ ১ হাজার ৭৫৫ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন এবং তারা সবাই নিরাপদে আছেন। তবে বোমাবর্ষণে কিছু স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। আমাদের বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমানকে উগান্ডা স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া আমাদের তিনটি হেলিকপ্টার গোমা শহর থেকে বুনিয়াতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কঙ্গোর শান্তি মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতি ছাড়া ডিআর কঙ্গোতে উল্লেখযোগ্য প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের বসবাস নেই।