ছোট মাংসপিন্ড কেন হয়

অনেকের ঘাড়, গলা কিংবা বগলে ছোট ছোট মাংসপিন্ড গজিয়ে ওঠে। অনেকটা আঁচিলের মতো দেখতে। ব্যথা, যন্ত্রণা কিছু হয় না। হাত স্পর্শ না করলে বোঝাই যায় না শরীরে এমন মাংসপি- গজিয়েছে। কিন্তু আচমকা কেন গজায় এমন ছোট ছোট মাংসপিন্ড। এগুলো হতে পারে কোনো বড় রোগের লক্ষণ।

ছোট ছোট মাংসপিন্ডগুলো আসলে কী?

ত্বকে গজিয়ে ওঠা এই ছোট মাংসপিন্ডগুলোকে ডাক্তারি পরিভাষায় অ্যাক্রোকর্ডন বলা হয়। এগুলো আকারে ছোট এবং গোল। সাধারণত ঘাড়, অ্যাক্সিলা এবং ইনগুইনাল ভাঁজে এগুলো গজিয়ে ওঠে। তবে ত্বকের যেকোনো জায়গাতেই এটা হতে পারে। ত্বকের রঙের থেকে কিছুটা গাঢ় এই মাংসপি-ের ফলে আপাতদৃষ্টিতে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। এগুলোর বৃদ্ধিও খুব ধীরে হয়।

ডায়াবেটিসের সতর্কতা চিহ্ন

শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণে এমন মাংসপি- গজায়। সাধারণত ঘাড় এবং বগলেই এ ধরনের মাংসপিন্ড- গজাতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর অর্থ হলো, শরীর খুব শিগগিরই ডায়াবেটিসের কবলে পড়তে চলেছে। আক্রান্ত হওয়ার বহু আগেই শরীরে এ ধরনের মাংসপি- গজায়। তাই এটাকে ডায়াবেটিসের সতর্কতা চিহ্নও বলা হয়।

চিকিৎসা

ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে সাধারণত এ ধরনের মাংসপিন্ড গজাতে দেখা যায়। তাই এ রোগীদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রতিদিন ব্যায়াম এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক সময় জিনগত কারণেও এমনটা হয়। আবার বেসাল সেল কার্সিনোমা বা প্রাথমিক অবস্থার টিউমার থেকে এ ধরনের মাংসপিন্ডকে আলাদা করতেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কসমেটিকের কারণে কেউ কেউ এই স্ক্রিন ট্যাগগুলোকে শরীর থেকে ফেলে দিতে চান। এক্ষেত্রে ইলেকট্রোফালগারেশন নামে সার্জারির মাধ্যমে (ইলেকট্রকটারি মেশিনের সাহায্যে) দুয়েকটা সেশনেই এগুলো খুব সহজেই দূর করা সম্ভব।