স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অপারেশন ডেভিল হান্টের অভিযানে রাঘববোয়াল থেকে চুনোপুঁটি কেউ ছাড় পাবে না। যারা শয়তান, তারাই ডেভিল হান্টে ধরা পড়বে। এতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও ছাড় পায়নি, পাবেও না। অপারেশন ততদিনই চলবে যতদিন না দেশ ডেভিলমুক্ত হবে।
রাজশাহীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ডেভিল হান্ট ডিক্লিয়ার (ঘোষণা) করার পর আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও আমরা ছাড় দিইনি। প্রথম দিনই পাঁচজনকে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। সুতরাং, ছোট-বড় ব্যাপার না। যিনি এই জালে আসবেন, তিনিই ধরা পড়বেন।
অভিযানে কিংবা মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পায়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নির্দোষ ব্যক্তি কোনো অবস্থায় যেন শাস্তি না পান, সে জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, আমরা নিচ্ছি। আইজিপি (পুলিশ মহাপরিদর্শক) সাহেব এখানে আছেন। তাঁর ওখানে একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। এসপি, ডিসি, লিগ্যাল এইড অফিসার থাকবেন। এরপরও ওপরে আরেকটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। যারা মিথ্যা মামলা করেছেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনের ভেতরে থেকে যতটা সম্ভব, তাঁদের (নিরাপদ ব্যক্তিদের) জন্য কাজ করবেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যারা ভুক্তভোগী, তারা অবশ্যই আইনগত সহায়তা পাবেন। শুধু আমাদের এখান থেকে নয়, লিগ্যাল এইড ডিপার্টমেন্ট আছে, সেখান থেকেও তাঁরা সহায়তা পাবেন।
এ সময় তিনি বলেন, ভারতের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের বিরুদ্ধে দেশের সাংবাদিকরা সত্য সংবাদ প্রকাশ করায় তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। দেশের মানুষের সহযোগিতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে চালানো তাদের অপতৎপরতাও রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান বন্ধে জনগণকেও সবাইকে সচেতন হতে হবে।
মতবিনিময় সভায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজশাহীতে দায়িত্বরত সেনা, বিজিবি, র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।