ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বর্জন আইনজীবীদের

অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার)। তিন দিন আইনজীবীদের আন্দোলন ও আদালতে অচলাবস্থা চলার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকা বার। মঙ্গলবার ঢাকা বারের অ্যাডহক কমিটির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমিতির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির সাবেক, বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এজলাসে বসে আইনজীবীদের সম্পর্কে কটূক্তি ও অশালীন আচরণ করে। বহু আইনজীবীর সাথে এমন দুর্ব্যবহার, অশোভন আচরণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা বারের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, বুধবার থেকে এই আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় আদালতে আসেন বিচারক নূরে আলম। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একজন আইনজীবী এসে বলেন আদালত যেন আজ না বসেন। আইনজীবী এসে বলে যাওয়ার পর এদিন বিচারক আর এজলাসে উঠেননি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি এক আসামির জামিন আবেদন নাকচ করায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিচারককে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান। 

গত রবিবার বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একাংশ বিচারকের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। তোপের মুখে ওইদিন এজলাসে ওঠেননি বিচারক নূরে আলম। সেদিন বিচারক নূরে আলম আদালতে আসলেও বিচার কাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। গত সোমবার সকাল সোয়া ১১টার  দিকে এজলাসে ওঠেন বিচারক। এ সময় আদালত চত্বরে নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কয়েকজন আইনজীবী নিয়মিত মামলার শুনানি করেন।

এরই মাঝে ঢাকা বারের অ্যাডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান দীপুর নেতৃত্বে আইনজীবীরা বিচারকাজ পরিচালনায় বাধা দেন। তারা বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি কি পুলিশ দিয়ে কোর্ট চালাবেন? আপনার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছি, আপনি চলে যান।’ হট্টগোলের এক পর্যায়ে বেলা ১২টার দিকে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক।