ইবিতে বিকালের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষের নির্দেশনা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান বিকাল ৪টার মধ্যে শেষ করতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। এদিকে এই সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের যেকোনো অনুষ্ঠান বিকাল ৪টার মধ্যে শেষ করতে হবে। এছাড়াও ক্যাম্পাসের মধ্যে যে কোনো অনুষ্ঠানের অনুমতির জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা বা প্রক্টর বরাবর আবেদন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটতে পারে এমন কেউ অংশ গ্রহণ করবেনা মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখা সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় এমন ধরাবাঁধা নিয়মনীতির কোনো কারণ আছে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়না। এখানে শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক সময়ের পর অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে এটাই স্বাভাবিক। আমি এই বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলবো আশাকরি শিগগিরই এই সিদ্ধান্তের পরিমার্জন হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে মাসখানেক ধরে বিভিন্ন জেলা কল্যাণের অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে। সংগঠনগুলো যাতে তাদের প্রোগ্রাম চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য কাজ করা হচ্ছে। মন্দের ভালো হিসেবে আমরা প্রজ্ঞাপনে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি চারটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশে সংগঠনগুলো অন্তত সন্ধ্যার মধ্যে তা শেষ করার চেষ্টা করবে। কেননা সন্ধ্যার পর কোনো অনুষ্ঠান চললে যে সমস্যা হয় তা আমরা দেখেছি। এক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা দেয়া কঠিন হয়ে যায়। ইবি থানা স্থানান্তর নিয়ে ইতোমধ্যেই একটা বিরূপ পরিস্থিতি যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আটটা হলসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। আমরা জানি আমাদের নিরাপত্তা কর্মীর ঘাটতি আছে। ইবি থানার পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে পূর্বে ক্যাম্পাসে টহল দিতো কিন্তু তা এখন আর হচ্ছে না। তাই ক্যাম্পাসে ছুটির দিনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া এখনো সম্ভব হয়নি। তাছাড়া প্রক্টরিয়াল বডির সবসময় নজর রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ছুটির দিনগুলোতে অনেক সংগঠন প্রোগ্রাম করে, অনেকে এসে বক্তব্য দিয়ে যায়, পরে প্রশ্ন ওঠে কেন এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আনার সুযোগ দেওয়া হলো। আমরা নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা করছি।  এটি সম্ভব হলে প্রক্টরিয়াল বডির সাথে আলোচনা করে নির্দেশনাগুলোর সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্ধন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’