শুল্কহার কমানোয় আমদানি বেড়েছে। রেকর্ড আমদানির ফলে পাইকারি বাজারে কমেছেও খেজুরের দাম। তবে খুচরা বাজারে এখনো বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে ফলটি। তবে ব্যবসায়ীদের আশা, এবার রোজায় খুব বেশি বাড়বে না ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গটির দাম। তারা বলছেন, রমজান মাস কেন্দ্র করে এবার যথেষ্ট খেজুরের মজুদ রয়েছে, তাই রোজায় দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে ক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, ইতিমধ্যে খেজুরের দাম যেখানে গিয়ে ঠেকেছে, সেটাই অনেকের জন্য অনেক বেশি।
সরেজমিন পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, সদরঘাট, ওয়াইজঘাট, বাবুবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি জাহিদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০, বড়ই খেজুর ৪৭০ থেকে ৫২০, দাব্বাস খেজুর ৪৭০-৫২০ ও আজোয়া খেজুর ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে ২০-৩০ টাকা কমবেশি করে বিক্রি করে আসছেন তারা। খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, দুয়েকটি খেজুরের দাম কিছুটা কমলেও বেশিরভাগ খেজুর আগের দামেই কিনতে হয়েছে তাদের।
অন্যদিকে খেজুরের পাইকারি বাজারে ঘুরে দেখা যায়, জাহিদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০, বড়ই খেজুর ৩৫০-৩৬০, দাব্বাস ৩৫০-৩৬০ ও আজোয়া ৯০০-৯৫০ টাকা প্রতি কেজি পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের বছরের থেকে প্রতি কেজিতে অন্তত ৭০ টাকার বেশি কমেছে। সেই হিসাবে খুচরায় খেজুরের দাম তেমন কমেনি বললেই চলে।
চট্টগ্রাম বন্দরে খবর নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালে ৭৫ হাজার ২২০ টন ও ২০২৩ সালে খেজুর আমদানি হয়েছিল ৬৭ হাজার ৩২৩ টন। রোজার শুরুতে প্রতি বছর খেজুরের বাজার নিয়ে অস্থিরতা থাকায় এ বছর তা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য আগেভাগেই শুল্ক হার কমিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বিদ্যমান কাস্টমস ডিউটি ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ১০ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়। সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে খেজুরের কাস্টমস ডিউটি ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। অগ্রিম আয়কর ১০ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়। এতে করে মোট করহার ২৪.৯০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
দেশে খেজুরের চাহিদা রয়েছে ৮০-৯০ হাজার টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টন।
পাইকারি খেজুর ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর কম দামেই খেজুর আমদানি করতে পারছেন বলে কম দামে বিক্রি করছেন। সব ধরনের খেজুরই দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হয় বলে প্রায়ই দাম ওঠানামা করে। তবে রমজান কেন্দ্র করে এবার তাদের খেজুরের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে, তাই এবার দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন পাইকাররা।
অন্যদিকে শহরের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছু খেজুরের দাম আগের তুলনায় কমলেও অন্যান্য খেজুরের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে (যেমন আজোয়া, মরিয়ম, ম্যাগজুল)। আগে শুধু রমজান মাসে খেজুর বিক্রি হলেও এখন প্রায় ১২ মাসই চাহিদা রয়েছে বলে জানা যায়। তবে রমজানে মাসের ক্রেতার চাপ এখন শুরু হয়নি, শবেবরাতের পর থেকে ক্রেতার আশা করছেন তারা। সেই সঙ্গে রমজান মাসে খেজুর দাম নিয়ে পাইকারদের বিপরীত আশঙ্কা করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা, এখন কিছুটা কম থাকলেও রমজানে দাম আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন তারা।
সদরঘাটে খেজুর কিনতে আসা রানা নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘শুধু খবরেই দেখি খেজুরের দাম কমেছে, কিনতে আসলে দেখি উল্টোটা। আগে যে দামে কিনেছি এখনো সে দামেই কিনছি। এভাবে হলে রোজায় খেজুরের দাম আরও বাড়বে। এ দেশে কেয়ামত ছাড়া কোনো জিনিসের দাম কমবে বলে মনে হয় না।’
বাদামতলীর ব্যবসায়ী মো. নাজমুল বলেন, ‘আমি খোলা খেজুর ১৩০ টাকা পাইকারি বিক্রি করি, একই খেজুর স্টিমার ঘাটে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। নয়াবাজারে দেখি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মূলত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় দামের এমন তারতম্য। খেজুরের দাম আমরা কমে বিক্রি করলেও তার সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন না।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খেজুরের দাম পাইকারি বাজারে কমলেও খুচরা বাজারে কমেনি। এর কারণ ভোক্তারা আসলে জানে না কোন খেজুরের দাম কত। খেজুর যদি প্যাকেটিং আকারে এমআরপি রেট দিয়ে বিক্রি করা হতো তাহলে এ সমস্যা থাকত না। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।