কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন করে প্রস্তুত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
আজ বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল গভর্নমেন্ট সামিটের ওয়ার্ল্ড রেগুলেটরি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংযুক্ত আরব আমিরাত মন্ত্রিসভার মিনিস্টার অব স্টেট ও সেক্রেটারি জেনারেল মরিয়াম আল হাম্মাদি। অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, আইনজ্ঞ ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিষয়ে এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরিতে রেগুলেটরি ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (আরআইএ) এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উল্লেখ করেন।
দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অভিযোজন সক্ষম আধুনিক আইনি কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আধুনিক বিশ্বে এআই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এআই এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা মোকাবিলায় আমাদের নতুন করে প্রস্তত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এআই-এর প্রয়োগ বৈশ্বিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম বিধায় এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি সম্মিলিত নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রয়োজন। তাই তিনি এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও নেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, এআই কিংবা এরূপ অন্য কোনও আধুনিক প্রযুক্তির জটিলতা মোকাবিলায় এককভাবে কোনও নির্দিষ্ট দেশীয় আইনি কাঠামো যথেষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি সিভিল এবং কমন ল’ ফ্রেমওয়ার্কের সমন্বয়ে অভিযোজন যোগ্য আধুনিক আইনি কাঠামো গঠনের জন্য বিশ্বের আইনজ্ঞ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান।